বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর আনন্দে মাততে কলকাতার (Kolkata) রাস্তায় নামছেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু উৎসবের ভিড়ের মধ্যে যাতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য আগেভাগেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। যানবাহনের নিয়ম ভাঙা থেকে শুরু করে বেপরোয়া গাড়ি চালানো—বিভিন্ন অভিযোগে পঞ্চমীর দিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৩৪ জনকে। সামনেই ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী। মণ্ডপে মণ্ডপে জনসমাগম আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না লালবাজার।
পঞ্চমীতে কলকাতাতে (Kolkata) গ্রেফতার ৩৩৪ জন
পুজোর ভিড় সামলাতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। চতুর্থী থেকেই একাধিক মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়েছিল। পঞ্চমীতে সেই ভিড় আরও জমে ওঠে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে মাঠপর্যায়ের পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি লালবাজার থেকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় রাখা হয়েছে।
পঞ্চমীর গ্রেপ্তারির তালিকায় বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। বাইকে তিনজন চড়ে যাওয়ার ঘটনায় ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী, চালক-সহ সর্বাধিক দুজন মোটরবাইকে যাতায়াত করতে পারেন। হেলমেট না পরে বাইক চালানোর অভিযোগে ধরা পড়েছেন ৯২ জন। রাস্তায় বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৫ জন। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আরও ৬১ জন। বাকি ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্যান্য অভিযোগে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর দিন পুলিশের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, পুজোর ভিড়ে নিয়ম ভাঙলে ছাড় দেওয়ার পথে হাঁটছে না প্রশাসন।
শুধু যান চলাচল নয়, ভিড়ের মধ্যে মহিলাদের নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়লে হেনস্থার আশঙ্কাও তৈরি হয়। সেই ধরনের ঘটনা এড়াতে নজরদারি চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। উৎসবের আনন্দ যাতে কোনওভাবেই মহিলাদের কাছে অস্বস্তি বা নিরাপত্তাহীনতার কারণ না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
এবার শহরে পুজোর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কলকাতায় মোট পুজোর সংখ্যা ২,৯৮১টি—গত বছরের তুলনায় ৪০০-রও বেশি। এতগুলি মণ্ডপে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রতিটি পুলিশ ডিভিশনেই ছোট পুজোগুলির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গড়ে ১০ থেকে ১৫টি ছোট মণ্ডপের দায়িত্ব সামলাবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ডিভিশন। কোনও মণ্ডপে সার্জেন্ট, আবার কোথাও এএসআইয়ের তত্ত্বাবধানে চার থেকে আটজন পুলিশকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন : পড়ুয়াদের সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ, স্কুলগুলির জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি শিক্ষা দপ্তরের
শহরের রাস্তায় টহলদারি বাড়াতে একাধিক বিশেষ বাহনও ব্যবহার করা হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুদফায় ২০টি হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, ১০টি স্পেশাল রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৩০টি পিসিআর মোবাইল ভ্যান মোতায়েন করা হচ্ছে। এই গাড়িগুলি ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করবে। কোথাও অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দমকলের গাড়িকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দিতে পুলিশের টহলদারি গাড়ি পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। স্থলপথের পাশাপাশি জলপথেও নিরাপত্তার পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতা পুলিশের তিনটি লঞ্চ শহরের ১৫টি ঘাটে ঘুরে নজরদারি চালাবে। ফলে ঘাট ও নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।














