বাংলা হান্ট ডেস্ক:পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipur) কাঁথির (Kanthi) মুকুন্দপুর থেকে উদ্ধার হল একটি কচ্ছপ। কচ্ছপটিকে উদ্ধার করেছে বনদপ্তর, মুকুন্দপুর মৎস্য খটি থেকে। এটি অলিভ রেডলে প্রজাতির কচ্ছপ যার ওজন ৩৫ কেজি। আপাতত এটি বনদপ্তরের পর্যবেক্ষণে আছে।
পূর্ব মেদিনীপুরে (Purba Medinipur) উদ্ধার ৩৫ কেজি ওজনের কচ্ছপ:
বুধবার ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসে একটি সামুদ্রিক কচ্ছপ যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। ব্যস্ত মাছের খটিতে কি উঠে আসলো, তা নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায় মৎস্যজীবীদের মধ্যে। কচ্ছপটিকে দেখে অনেকে মোবাইলে ছবি তুলতে থাকেন, কেউ কেউ আতঙ্কিত হয়ে দূরে সরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা এবং মৎস্যজীবীরা দ্রুত খবর পাঠায় বনদপ্তরে আর খবর পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয় বনদপ্তরের কর্মীরা। এই সামুদ্রিক কচ্ছপটিকে ঘিরে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে বনদপ্তর। তারপর সেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। বনদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এই সামুদ্রিক কচ্ছপটির ওজন ৩৫ কেজি।
কচ্ছপটি অলিভ রিডলে প্রজাতির, যারা গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে। এই প্রজাতির কচ্ছপ সাধারণত মাঝ সমুদ্রে থাকে, এরা উপকূলের দিকে আসে না। তবে অনেক সময় দিকভ্রষ্ট হয়ে বা স্রোতের টানে উপকূলে চলে আসতে পারে। প্রজননের সময় এরা তীরের কাছে আসে।
আরও পড়ুন:ফ্ল্যাট থেকে তুলে এনে ব্যবসায়ীকে মারধর! বরাহনগরে তৃণমূল নেতার ‘দাদাগিরি’, পাঠানো হল নোটিস
বনদপ্তরের কর্মীরা জানিয়েছেন কচ্ছপটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তাকে উপযুক্ত সময়ে তার স্বাভাবিক বাসস্থানে ছেড়ে দেওয়া হবে, আপাতত সেটি বনদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে আছে। এই প্রজাতির কচ্ছপ জীব বৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাতে, এদের বড় ভূমিকা থাকে। কিন্তু বর্তমানে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

ট্রলার এবং জেলেদের জালে আটকে পড়ে এদের মৃত্যু হয়। প্লাস্টিক তেলজাত দ্রব্য ইত্যাদির কারণেও এদের প্রাণহানি ঘটে। ধীরে ধীরে এদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। সমুদ্রে দূষণের কারণে এদের মৃত্যু ঘটছে। কন্টাই ফরেস্ট রেঞ্জের অফিসার অতুলপ্রসাদ দে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌঁছাই। কচ্ছপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাকে স্বাভাবিক বাসস্থানে ছেড়ে দেওয়া হবে। সচেতনতা না বাড়ালে এই প্রজাতি দ্রুত হ্রাস পাবে। মানুষের সামান্য উদ্যোগ অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারে। তাই সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন’।

















