এক হাতে ধরা সিগারেট! অন্য হাতে স্টিয়ারিং, জন্মদিনে আনন্দ করতে বেরিয়ে মৃত ৪ বন্ধু

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজস্থানের (Rajasthan) উদয়পুরে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে সৃষ্টি করেছে তীব্র শোক ও আলোড়ন। ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ির চালক এক হাতে সিগারেট ও অন্য হাতে স্টিয়ারিং নিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এই বেপরোয়া গতির পরিণতিতে ১৭ জানুয়ারি ভোররাতে সাভিনা থানা এলাকায় একটি ব্যস্ত সড়কে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, যাতে চার তরুণের মৃত্যু হয় এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হন।

রাজস্থানে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৪ বন্ধুর, সমাজমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও

ঘটনার দিন ছিল শনিবার। এক বন্ধুর জন্মদিন পালনের উদ্দেশ্যে ছয় বন্ধু আনন্দ ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তের ভিডিওতে স্পষ্ট শোনা যায়, পিছনের সিটে বসা একজন যাত্রী বারবার চালককে গতি কমাতে অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধ অগ্রাহ্য করে চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনের দিক থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির সাথে প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই চার যুবক প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন: গাছের আড়ালে বাঙ্কারে ম্যাগি-সবজি-চাল সহ বিপুল রসদ! জইশ জঙ্গিদের ডেরায় কী কী উদ্ধার করল সেনা?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর প্রায় দশ মিনিট ধরে আটকে পড়া আহতরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই চার জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকি দুজনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বরকত কলোনির বাসিন্দা মহম্মদ আয়ানের জন্মদিন ছিল এই সফরের কারণ। তাঁর সাথে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে আদিব কুরেশি (বরকত কলোনি), শের মহম্মদ (মল্লাতালাই) এবং গুলাম (সাভিনা)—এই চারজনই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আহত দুজন হলেন ওয়াসিম ও মহম্মদ কাইফ। পুলিশ অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Four friends killed in a reckless driving incident in Rajasthan.

আরও পড়ুন:ভারতে T20 বিশ্বকাপ খেলতে আসার প্রশ্নে মাথা গরম বাংলাদেশের! রাখঢাক না রেখে কী জানালেন উপদেষ্টা?

এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও জনসচেতনতার আবহ তৈরি হয়েছে। নেটিজেনরা সামাজিক মাধ্যমে চালকের বেপরোয়া আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি তুলেছেন। পুলিশ দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং গাড়ির চালকের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা এই ট্র্যাজেডিকে পয়েন্ট করেন যুবসমাজে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির জরুরি প্রয়োজনীয়তার দিকে।