বাংলাহান্ট ডেস্ক: ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল ফারো দ্বীপপুঞ্জে (Faroe Islands) ফের প্রকাশ্যে এল এমন এক দৃশ্য, যা দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। সমুদ্রতটে সারি সারি পড়ে রয়েছে শত শত তিমি ও ডলফিনের নিথর দেহ। সমুদ্রের নীল জল রক্তে লাল হয়ে উঠেছে। সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হাজির হয়েছেন নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুরাও। ভাইকিং যুগ থেকে চলে আসা ‘দ্য গ্রাইন্ড’ বা ‘গ্রিন্ডাড্রাপ’ নামের ঐতিহ্যবাহী শিকার উৎসবকে কেন্দ্র করে আবারও প্রাণ হারাল শত শত সামুদ্রিক প্রাণী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণীপ্রেমী সংগঠনগুলি অবিলম্বে এই প্রথা বন্ধের দাবি তুলেছে এবং ফারো দ্বীপপুঞ্জ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ফারো দ্বীপপুঞ্জে (Faroe Islands) উৎসবের নামে হত্যা করা হল ৭০০ ডলফিন-তিমিকে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ মে ফারো দ্বীপপুঞ্জে (Faroe Islands) পালিত হয় এই বিতর্কিত উৎসব। উৎসবের অংশ হিসেবে সমুদ্রে থাকা ডলফিন ও তিমির ঝাঁককে নৌকা ও জালের সাহায্যে তাড়া করে উপকূলের অগভীর জলে নিয়ে আসা হয়। এরপর বহু মানুষ হাতে ছুরি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে জলে নেমে পড়েন। জীবন্ত প্রাণীগুলিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখা যায় প্রাণীগুলিকে। হত্যাকাণ্ডের পর মৃতদেহগুলো সমুদ্রতটে স্তূপ করে রাখা হয়। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদের ঝড়।
আরও পড়ুন: শুভমান গিলের কাছ থেকে কি চাইছে ভারতীয় দল? আর T-20 খেলতে পারবেন? সব উত্তর দিলো BCCI
সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সি শেফার্ড ফর গ্লোবাল মেরিন কনজারভেশন’-এর পরিচালক ভ্যালেন্টিনা ক্রাস্ট জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে ইউরোপীয় বিভিন্ন সরকারের কাছে এই প্রথা বন্ধ করার আবেদন জানানো হলেও এখনও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এবারের উৎসবে অন্তত ৪০২টি পাইলট তিমি এবং ৩০০-রও বেশি ডলফিনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রাণী অধিকার রক্ষা সংগঠন PETA-র সভাপতি অ্যালিসা অ্যালেন এই ঘটনাকে “নিষ্ঠুরতার উৎসব” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ডলফিন ও তিমি অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী, যারা পরিবারবদ্ধভাবে বসবাস করে। এই উৎসবে একসঙ্গে পুরো পরিবারকেই হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে ফারো দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসন এই প্রথার পক্ষে সওয়াল করেছে। তাদের দাবি, শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। প্রশাসনের বক্তব্য, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে তিমি ও ডলফিনের সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত রয়েছে এবং শিকার নিয়ন্ত্রিতভাবেই করা হয়। পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয় বলে দাবি করেছে তারা। তবে পরিবেশবিদদের একাংশ এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, আধুনিক যুগে বিনোদন বা ঐতিহ্যের নামে এমন নৃশংস প্রাণীহত্যার কোনও নৈতিক ভিত্তি থাকতে পারে না।

আরও পড়ুন: সীমান্ত বিতর্কে সংঘাত নয়, আলোচনাই পথ! ভারতের প্রতি বার্তা নেপালের বিদেশমন্ত্রীর
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের প্রায় ২০০ মাইল উত্তরে অবস্থিত টরসভন এলাকায় ৪০২টি পাইলট তিমি হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া স্কালাবোটনুরে ১৬৮টি এবং হাভালভিকে ১৩২টি হোয়াইট-সাইডেড ডলফিন মারা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের উৎসবে প্রাণ হারিয়েছে ৭০৬টি সামুদ্রিক প্রাণী। সমালোচকদের অভিযোগ, ফারো দ্বীপপুঞ্জের (Faroe Islands) সংসদ প্রাণী সুরক্ষা সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার পর থেকেই এই ধরনের শিকারের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার ডলফিন ও তিমি প্রাণ হারাচ্ছে। মানবিকতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাণী অধিকারের প্রশ্নে ‘দ্য গ্রাইন্ড’ উৎসব নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।













