বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ফের শিরোনামে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (RG Kar Hospital)। আবার চিকিৎসায় গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ উঠল এই হাসপাতাল ঘিরে। শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসা এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে মঙ্গলবার রাতে চরম উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। দীর্ঘক্ষণ বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital)
সূত্রের খবর, মৃত বৃদ্ধার নাম জৈবুন নিশা (৬৫)। তিনি বেলগাছিয়ার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে (RG Kar Hospital) আনার পর দীর্ঘক্ষণ বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ জৈবুন নিশাকে আর জি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ, সেই সময় সেখানে মাত্র একজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি রোগীকে পরীক্ষা করতে অস্বীকার করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকলেও প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট কোনও চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
এই চূড়ান্ত অব্যবস্থা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল (RG Kar Hospital) চত্বরে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুক্ষণ পর ৫ থেকে ৬ জন জুনিয়র ডাক্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে ততক্ষণে রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে যায়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত রাত প্রায় ৯টা ৩০ মিনিট নাগাদ জৈবুন নিশার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রমা কেয়ার ইউনিটের সামনে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন মৃতের আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মৃতার পরিবারের এক সদস্য শামিম আখতার বলেন, “আর জি করের অবস্থা খুব খারাপ। আমরা বলব, কারও অবস্থা খুব খারাপ হলে তাকে আর জি করে নিয়ে আসবেন না। ডাক্তারদের পুলিশের সাপোর্ট আছে, কিন্তু আমরা কোনও পরিষেবা পাচ্ছি না। গোটা হাসপাতালেই চূড়ান্ত অব্যবস্থা।”

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ হাতে ভবানীপুরে অভিষেক, যাবেন রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে
বিক্ষোভ থামাতে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি হাসপাতালে (RG Kar Hospital) মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। এই ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন মৃতার পরিবার। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

















