বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং যাত্রীদের সুষ্ঠুভাবে পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বন্দে ভারতের মতো অত্যাধুনিক সেমি-হাই স্পিড ট্রেন চলছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনেরও। ঠিক এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভবিষ্যতে বন্দে ভারত ৪.০ ট্রেন ৩৫০ কিমি/ঘন্টা গতিতে ছুটবে। যা ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম রেল ব্যবস্থার দেশগুলির মধ্যে স্থান করে দেবে। রেল মন্ত্রকের মতে, এই বিকাশ পরবর্তী প্রজন্মের উচ্চ-গতির রেল ভ্রমণের প্রতি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে। পাশাপাশি এটাও জানা গিয়েছে যে, এটি মূলত, মুম্বাই-আহমেদাবাদ রুটের মতো ডেডিকেটেড হাই-স্পিড করিডোরের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে।
আসছে বন্দে ভারত ৪.০ ট্রেন (Indian Railways):
জানিয়ে রাখি যে, প্রথম সেমি-হাই স্পিড ট্রেনসেটটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু করা হয়েছিল। এদিকে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলি চালু করা হয়েছিল। অপরদিকে, ২০২৫ সালে শক্তি দক্ষতা এবং যাত্রী সুবিধার উন্নতি চালু করা হয়। ২০২৬ সালে চালু হয়েছে বন্দে ভারতের স্লিপার ভেরিয়েন্ট। এই দূরপাল্লার ট্রেন রাতেও চলবে। এর চতুর্থ সংস্করণ ২০২৭ সালে চালু হবে। যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ৩৫০ কিমি/ঘন্টা। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০৪৭ সালের মধ্যে সারা দেশে ৪,৫০০ টি বন্দে ভারত ট্রেন চালানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বন্দে ভারত ৪.০ কেবল গতির বিষয়ে নয়, বরং সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের সেরা মানদণ্ডগুলি গ্রহণ করবে। কবচ ৫.০ হল ভারতের স্বদেশী ‘অটোমেটিক ট্রেন প্রটেকশন’ ব্যবস্থা। এটি ট্রেনকে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি, সিগন্যাল জাম্প হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করে এবং অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এই প্রযুক্তিতে ব্রেকিংয়ের সময় শক্তি উৎপন্ন করে। যা পরে গ্রিডে ফেরত পাঠানো হয়। যার ফলে উল্লেখযোগ্য শক্তি সাশ্রয় হয়।
আরও পড়ুন: SBI-র গ্রাহকদের জন্য বড় ঝটকা! ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়তে চলেছে এই চার্জ, এখনই নিন জেনে
এই সিস্টেম একটি ‘সেমি-পার্মানেন্ট কাপলার’ এবং উন্নত সাসপেনশন ব্যবহার করে। যা যাত্রীদের উচ্চ গতিতেও কোনও ঝাঁকুনি অনুভব না করার বিষয়টি নিশ্চিত করে। উল্লেখ্য যে, বন্দে ভারত ৪.০-এ থাকবে বায়ু জীবাণুমুক্ত করার জন্য একটি দেশীয় UV-C ল্যাম্প-ভিত্তিক জীবাণুনাশক ব্যবস্থা। এছাড়াও থাকবে সম্পূর্ণ সিল করা গ্যাংওয়ে এবং সেন্ট্রালাইজড স্বয়ংক্রিয় প্লাগ দরজা।
আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততেই হবে সিরিজ! তৃতীয় ম্যাচে কেমন হবে টিম ইন্ডিয়ার প্লেয়িং ইলেভেন?
পাশাপাশি থাকবে বিশেষভাবে ডিজাইন করা টয়লেট এবং আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। প্রতিটি কোচে নিরাপত্তা এবং জরুরি ইউনিটের জন্য ক্যামেরাও থাকবে। যাতে ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। উল্লেখ্য যে, ভারতীয় রেল ২০৪৭ সালের মধ্যে রেল ভ্রমণকে সম্পূর্ণরূপে উন্নত করতে চায়। যেখানে বন্দে ভারত নেটওয়ার্ক হয়ে উঠবে ভারতের লাইফলাইন। আর সেই লক্ষ্যেই একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
















