বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতা হাইকোর্টে এসএসসি নিয়োগ (SSC Recruitment) সংক্রান্ত ‘১০ নম্বর’ মামলা নিয়ে আবারও শুনানি হল। বহু বছর ধরে স্কুলে পড়ানো চাকরিহারা ও কর্মরত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া ঠিক কি না, সেই প্রশ্নই এদিন আদালতে উঠেছে। এই নম্বর দেওয়ার নিয়ম আইনসম্মত কি না, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। এই মামলার রায় ভবিষ্যতের শিক্ষক নিয়োগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কী নিয়ে এই ‘১০ নম্বর’ বিতর্ক?
কলকাতা হাইকোর্টে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ (SSC Recruitment) সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ‘১০ নম্বর’ মামলা। চাকরিহারা ও কর্মরত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর অতিরিক্ত দেওয়া আইনসম্মত কি না, তা নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা হয়।
শুনানিতে মাননীয় বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট করে বলেন, আগে দেখতে হবে এই ১০ নম্বর দেওয়ার নিয়মটাই আইন অনুযায়ী ঠিক আছে কি না। কে যোগ্য, কে নয়, সে প্রশ্নে যাওয়ার আগে এই নীতির বৈধতা বিচার করবে আদালত। একই কথা প্যারা-টিচার ও ভোকেশনাল শিক্ষকদের ১০ নম্বর সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
পিটিশনারদের আইনজীবীরা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে যাঁরা স্কুলে পড়াচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করা যায় না। তাঁদের বক্তব্য আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া হলে সমস্যা হতো না। এই প্রসঙ্গে আইনজীবীদের দাবি, শুরু থেকেই যদি নতুন প্রার্থী (ফ্রেশার) এবং অভিজ্ঞ ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া থাকত, তাহলে আজ এই মামলা তৈরি হতো না। ২০০৯-১০ সালের প্রাথমিক নিয়োগে যেমন পুরনো ও নতুনদের আলাদা করে দেখা হয়েছিল, এখানেও তেমনটা করা উচিত ছিল। সবার জন্য একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার ফলেই যোগ্য শিক্ষকরা সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ। প্রাইমারি শিক্ষায় প্যারা-টিচাররা তাঁদের অভিজ্ঞতার জন্য সরাসরি ৫ নম্বর পান। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা সহকারী শিক্ষকরা কেন অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর পাবেন না এই প্রশ্নও তোলা হয়।
নীতিগত সিদ্ধান্ত বদলানো যায় কি?
শুনানিতে বলা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ নিয়ম বদলানো ঠিক নয়। এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত, যেখানে সাধারণত আদালতের হস্তক্ষেপ সীমিত থাকে। আগের একাধিক মামলার উদাহরণ টেনে বলা হয়, সেখানেও ১০ নম্বরের বিষয়টি ছিল এবং আদালত তাতে বাধা দেয়নি।
ফ্রেশাররা কি সত্যিই বঞ্চিত?
নতুন প্রার্থীরা সুযোগ পাচ্ছেন না এই অভিযোগ মানতে নারাজ কমিশন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী –
- নবম-দশম শ্রেণি: ইন্টারভিউ ও ভেরিফিকেশনের জন্য ডাকা প্রার্থীদের প্রায় ৬৮ শতাংশই ফ্রেশার। ইন-সার্ভিস ছিলেন মাত্র ১২ শতাংশ।
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: এই স্তরেও প্রায় ৫০ শতাংশ ফ্রেশার সুযোগ পেয়েছেন।
এই তথ্য দেখিয়ে বলা হয়, অভিজ্ঞদের ১০ নম্বর দিলেও নতুনদের সুযোগ কমছে না।

আরও পড়ুনঃ SIR বিতর্কে নতুন মোড়, মমতার বিরুদ্ধে ‘উস্কানি’র অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন
কবে পরের শুনানি?
এই মামলার (SSC Recruitment) পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। সেদিনই ১০ নম্বর দেওয়ার নিয়ম আইনসম্মত কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
















