পর্যটকদের বাঁচাতে জঙ্গিদের গুলিতে দিয়েছিলেন প্রাণ! পহেলগাঁওয়ের আদিলের উদ্দেশ্যে সাহসিকতার পুরস্কার

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিতে ৫৬ জনকে সম্মানিত করল জম্মু ও কাশ্মীর সরকার। এই তালিকায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে পহেলগাম হামলায় শহিদ হওয়া আদিল হুসেন শাহের নাম। গত বছরের এপ্রিলে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সময় নিজের প্রাণের পরোয়া না করে পর্যটকদের বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন আদিল। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর এই অসামান্য সাহসিকতাকে স্মরণ করে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে মরণোত্তর পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

পহেলগাঁওয়ের আদিলের (Adil Hussain Shah) উদ্দেশ্যে সাহসিকতার পুরস্কার

২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন কেন্দ্র পহেলগামে ঘটে যাওয়া ওই জঙ্গি হামলায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নির্বিচারে গুলিবর্ষণে প্রাণ হারান ২৫ জন পর্যটক। সেই হামলার মধ্যেই পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে সামনে চলে আসেন আদিল হুসেন শাহ। স্থানীয় বাসিন্দা আদিল পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝেও পিছু হটেননি। জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন: ছিল বড়সড় হামলার ছক? ১৮৭ টি বস্তায় প্রায় ১০,০০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার এই রাজ্যে

আদিলের এই আত্মত্যাগ কেবল একটি ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়, বরং কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের মানবিক মুখকে তুলে ধরেছে। যখন আতঙ্কে চারদিক স্তব্ধ, তখন একজন সাধারণ যুবক মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। হামলার পর থেকেই আদিলের নাম কাশ্মীর ও দেশের নানা প্রান্তে সাহস ও মানবতার প্রতীক হিসেবে উচ্চারিত হতে থাকে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বলেন, আদিল হুসেন শাহের আত্মত্যাগ কখনও বিস্মৃত হওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর নয়, সাধারণ মানুষের সাহস ও সহানুভূতিও এই লড়াইয়ের অন্যতম শক্তি। উল্লেখযোগ্যভাবে, হামলার পর আদিলের শেষকৃত্যেও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে, যা তাঁর পরিবারের পাশে সরকারের থাকার বার্তা দেয়।

Pahelgam victim late Adil Hussain Shah got Bravery Award.
আদিলের স্ত্রীর হাতে LG মনোজ সিনহা সাহসিকতার পুরস্কার তুলে দেন

আরও পড়ুন: UAE-র প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের পরেই ঘুরে গেল খেলা! পাকিস্তান পেল বড়সড় ঝটকা

এই সম্মান প্রদানের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর সরকার স্পষ্ট করেছে যে, সন্ত্রাসের অন্ধকারে যারা আলোর দিশা দেখান, তাদের ত্যাগ রাষ্ট্র স্মরণ রাখে। আদিল হুসেন শাহের নাম তাই শুধু একটি পুরস্কারের তালিকায় নয়, বরং কাশ্মীরের ইতিহাসে এক অনন্য সাহসিকতার অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।