বাংলাহান্ট ডেস্ক : আনন্দপুরের (Anandapur Fire) গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। থানা, হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও এখনও তাঁদের হদিস পায়নি পরিবারের সদস্যরা। এদিকে এই ঘটনায় একগুচ্ছ প্রশ্ন উঠে আসছে। কীভাবে লাগল এমন ভয়াবহ আগুন? অগ্নি নির্বাপণের কোনও ব্যবস্থা কি ছিল গুদামে?
কীভাবে লাগল আনন্দপুরের (Anandapur Fire) গুদামে আগুন?
আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয় বলেই জানা যাচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তের পর প্রকাশ্যে এসেছে, পাশের ডেকরটর্সের গুদামেই প্রথম আগুন লাগে। তারপর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের মোমো কারখানায়। জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ৩ টে নাগাদ আগুন লাগে দুটি গুদামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১২ টি ইঞ্জিন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। তারপরেও গত দেড় দিনেরও বেশি সময় ধরে আগুনের শিখা দেখা গিয়েছে গুদামে।

বেরোতে পারেননি শ্রমিকরা: একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এই ঘটনায়। ডেকরটর্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে ওই গুদামে অনেকেই ছিলেন। আগুন লাগার পর কয়েকজন বাইরে বেরোতে পারলেও অনেকেই ভেতরে আটকে পড়েছিলেন। অনুমান করা হচ্ছে, আগুন লাগার পর গুদামের (Anandapur Fire) ভেতরে দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ফলত ঘুমের মধ্যেও অনেকের দমবন্ধ হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। গুদামের যেসব জায়গায় দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে তা পর্যালোচনা করে ঘটনার একটি রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন : সুদ সমেত ফেরত দিতে হবে বেতন, প্রক্রিয়া শুরু হতে কত টাকা দিতে হবে দাগিদের?
ভেতরে ছিল অনেক দাহ্য পদার্থ: জানা গিয়েছে, গুদামের ভেতরে দাহ্য পদার্থ ভর্তি ছিল। ফলত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। দুই গুদামের মাঝে জায়গা থাকলেও সেখানেও অনেক দাহ্য পদার্থ ছিল বলে খবর। তাই মোমোর কারখানাও চলে যায় আগুনের গ্রাসে। সেখানেও প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সমগ্র গুদাম জ্বলে ওঠে দাউদাউ করে।
আরও পড়ুন : ভোল বদলাচ্ছে রুবির মোড়, ৫০ কোটি খরচে তৈরি হবে স্কাইওয়াক, অনুমোদন লালবাজারের
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গুদামের মধ্যে একটি অংশে রান্নার জায়গা সহ আরও দুটি ঘরও ছিল। ডেকরটর্সের কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল গুদামে। প্লাইউড এবং কাঠ দিয়ে শ্রমিকদের তৈরি কাঠামোও ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা পাশের খাটালেও ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বিভাগের মতে, যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিল না ওই গুদামে। দমকলের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।













