UGC-র ‘বিতর্কিত’ নিয়মে ফুলস্টপ, Unreserved পড়ুয়াদের দাবিতে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

Published on:

Published on:

Supreme Court stays UGC controversial anti-discrimination rule
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুর কমিশন বা ইউজিসি-র নতুন ও বিতর্কিত বিধি নিয়ে আপাতত বড় রকমের স্বস্তি দিল দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই নির্দেশিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক, বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক চাপের আবহে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল এই নিয়ম সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই আপাতত ইউজিসির ওই বিধিতে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। মামলার শুনানি হয় দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে।

কোথায় বিতর্ক?

গত ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি (UGC) একটি নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে জানানো হয়, ২০১২ সালের জাতিভিত্তিক বৈষম্য বিরোধী নিয়মে সংশোধন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে ‘কাস্ট বেসড ডিসক্রিমিনেশন’ বা জাতিগত বৈষম্যকে এমন বৈষম্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা হলে তা বৈষম্য হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সাধারণ বা অসংরক্ষিত শ্রেণির পড়ুয়া এবং অধ্যাপকরা জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ জানানোর তালিকা থেকে কার্যত বাদ পড়েন। এই সংজ্ঞা ঘিরেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত।

সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে তৈরি হয়েছিল নয়া নিয়ম

এই বিধির পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ২০১৬ সালে আত্মঘাতী হয়েছিলেন হায়দরাবাদের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রোহিত ভেমুলা। তাঁর মৃত্যু গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার পর রোহিত ভেমুলার মা রাধিকা ভেমুলা সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১২ সালের ইউজিসি অ্যান্টি ডিসক্রিমিনেশন রেগুলেশন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট ইউজিসিকে আরও কড়া ও নতুন একটি বিধি তৈরির নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই ইউজিসি গত ১৩ জানুয়ারির এই নতুন নির্দেশিকা জারি করে।

নতুন এই ইউজিসি বিধি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অসংরক্ষিত ও উচ্চবর্ণের পড়ুয়ারা এই নির্দেশিকার বিরোধিতায় রাস্তায় নামেন। শিক্ষা দফতর ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা যায়। কেউ কেউ প্রতিবাদে ইস্তফাও দেন। এই সময়েই ২০১৯ ব্যাচের উত্তর প্রদেশের বরেলির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট অলঙ্ক অগ্নিহোত্রী ইউজিসির এই নিয়মকে ‘কালো আইন’ বলে অভিহিত করে পদত্যাগ করেন।

ইউজিসি বিধি নিয়ে ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর। সামনে উত্তর প্রদেশে নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে, উচ্চবর্ণের পড়ুয়াদের ক্ষোভ ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে মধ্যপন্থা খোঁজার চেষ্টা শুরু করে। এই আবহেই আইনজীবী বিনীত জিন্দাল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলা দায়ের করেন। তিনি ইউজিসির এই বিধিকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেন। সেই মামলার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে শীর্ষ আদালত এই নির্দেশিকায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, ২০১২ সালের ইউজিসি নির্দেশিকা, যা উপদেশমূলক ছিল, তা আপাতত জাতিগত বৈষম্যের ক্ষেত্রে বহাল থাকবে।

Supreme Court

আরও পড়ুনঃ ৪ দিনের মাথায় আনন্দপুর ‘জতুগৃহ’ কাণ্ডে ১৬৩ ধারা, ঘটনাস্থলে যেতে চেয়ে হাই কোর্টে শুভেন্দু

এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আমরা যদি হস্তক্ষেপ না করি, তা হলে এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে পারে। সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “এই বিধির কোনও মানে হয় না। নির্দেশিকায় যা লেখা রয়েছে, তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পর্যালোচনা করানো প্রয়োজন।” এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৯ মার্চ।