বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছেন। তাছাড়া, তিনি দাবি করেছেন যে, ভারত এখন ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। এই আবহে SBI একটি রিপোর্ট (SBI Research Report) প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে যে, কীভাবে এই চুক্তি ভারতকে দ্বিগুণ সুবিধা দেবে এবং ২৭,০০০ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হবে।
কী জানিয়েছে SBI রিসার্চ রিপোর্ট (SBI Research Report)?
মূলত, SBI রিসার্চের সর্বশেষ রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, ভারত যদি রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ক্রয় শুরু করে, সেক্ষেত্রে সরাসরি প্রায় ২৭,০৮১ কোটি টাকা অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারবে। SBI রিসার্চের মতে, হেভী ক্রুড অয়েল তেল Merey 16 আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে প্রায় প্রতি ব্যারেলে ১০ থেকে ১২ ডলার কম দামে পাওয়া যেতে পারে। এতদিন পর্যন্ত রাশিয়া থেকে সস্তা তেল ভারতের চাহিদা পূরণ করছিল। কিন্তু, এখন সেখান থেকে তেল আমদানি কমে গেলে ভেনেজুয়েলা একটি শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে ভারতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ওপর চাপ কমবে।

রাশিয়ার ওপর কমবে নির্ভরতা: জানিয়ে রাখি যে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার কারণে, ভারত উল্লেখযোগ্য ছাড়ে রাশিয়ান তেল কিনেছে। ফলস্বরূপ, ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। তবে, এখন পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। ভারতের কাছে এখন ভেনেজুয়েলা থেকে শুরু করে সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, আমেরিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলি সহ প্রায় ৪০ টি দেশ থেকে তেল কেনার বিকল্প রয়েছে। যেটি ভারতের সরবরাহকে আরও নিরাপদ এবং ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলবে।
রফতানিকারীদের সুবিধা: এদিকে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হবেন ভারতীয় রফতানিকারীরা। ইতিমধ্যেই আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। SBI রিসার্চ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হ্রাস ভারতের জন্য একটি গেম চেঞ্জার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যা শুল্কের ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম এবং বেশ কয়েকটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশের তুলনায় সরাসরি সুবিধা প্রদান করবে। জানিয়ে রাখি যে, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিতে টেক্সটাইল থেকে শুরু করে জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি, রাসায়নিক, সামুদ্রিক খাবার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং গুডসের মতো সেক্টরগুলি সবথেকে বেশি লাভবান হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভারতের মোট রফতানির ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রয়েছে। এমতাবস্থায়, শুল্ক হ্রাসের ফলে অর্ডার বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কর্পোরেট আয়ও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: সরকারের একটি সিদ্ধান্তেই এই ব্যাঙ্কের শেয়ারে ১০ শতাংশের বৃদ্ধি, আপনার পোর্টফোলিওতে আছে নাকি?
মুদ্রাস্ফীতির ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না: SBI রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ফলে দেশীয় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। তবে, সস্তা তেলের বিকল্পের সহজলভ্যতা জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এর অর্থ হল রফতানি বৃদ্ধি পাবে, ডলার আসবে এবং সাধারণ মানুষকে কোনও অতিরিক্ত বোঝার সম্মুখীন হতে হবে না। এদিকে, কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো সংবেদনশীল সেক্টরের ক্ষেত্রে ভারত চুক্তিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী দেশ। এমতাবস্থায়, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে গ্রামীণ আয় এবং খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে এই সেক্টরের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
















