ময়নায় গেরুয়া শিবিরে ধাক্কা, ক্রিকেটার বিধায়ককে আক্রমণ করে তৃণমূলে পা রাখলেন নেতা

Published on:

Published on:

BJP Leader Chandana Mondal Joins Trinamool Congress in Moyna
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় বিজেপির অন্দরে ভাঙনের সুর স্পষ্ট হল শুক্রবার। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলাতেই বিজেপির এক পরিচিত মুখ চন্দন মণ্ডল পদ্ম ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে (Trinamool Congress)। দলবদলের পিছনে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্ডাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

তৃণমূলে (Trinamool Congress) যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন চন্দন

শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল (Trinamool Congress) ভবনে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন ময়নার বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডল। পদ্ম প্রতীক ছেড়ে জোড়া ফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চন্দন সরাসরি আঙুল তোলেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার অশোক দিন্ডার দিকে। তাঁর অভিযোগ, ময়না এলাকার অর্থনীতি মূলত মাছ চাষের উপর নির্ভরশীল হলেও সেই ক্ষেত্রের উন্নয়নে বিজেপি বা বিধায়ক অশোক কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

চন্দনের আরও দাবি, আদি বিজেপি নেতাদের ক্রমশ কোণঠাসা করা হচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ময়না থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হন অশোক দিন্ডা। এবারও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অশোককেই প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব সূত্রে খবর। চন্দনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তিনি দলবদল করেছেন, এমনটাই দাবি বিজেপির দাবি।

চন্দন জানান, উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তৃণমূলে (Trinamool Congress) যোগ দিয়েছেন। ময়নার বেশ কিছু এলাকায় গত ছ’ মাস ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প বন্ধ ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি তৃণমূল নেতৃত্বকে জানানো হলে প্রকল্পটি ফের চালু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, একসময় চন্দন ময়না এলাকায় বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। অন্যদিকে, তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল পাল্টা দাবি করেছেন, তৃণমূল ময়নায় উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না। তাঁর কথায়, “চন্দনের মতো মানুষকে অর্থ ও প্রার্থী হওয়ার লোভ দেখানো হয়েছিল। সেই লোভেই তিনি দলবদল করেছেন।”

TMC tightens joining rules in Jangipur

আরও পড়ুনঃ ১৫০০ টাকার বেকার ভাতা! কারা পাবেন, কারা বাদ, যুবসাথী নিয়ে বড় ঘোষণা জানুন…

তিনি আরও বলেন, “অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে ভারতীয় জনতা পার্টি করতে হয়। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজের প্রাণ দিয়ে তা শিখিয়ে গিয়েছেন। কে প্রার্থী হওয়ার লোভে দলবদল করলেন, তা নিয়ে বিজেপির কোনও মাথাব্যথা নেই। ময়নায় আবার বিজেপি প্রার্থী জয়ী হবে।”