বাংলাহান্ট ডেস্ক: সর্বভারতীয় চার্টাড অ্যাকাউন্টেন্ট পরীক্ষায় বড় সাফল্য (Success Story) অর্জন করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এক মেধাবী ছাত্রী। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা খুশি শিকারিয়া প্রথমবার এই পরীক্ষায় বসেই অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২ অর্জন করেছেন। এই ফল প্রকাশের পরই খুশির হাওয়া বইছে গোটা শহরে। মেদিনীপুরের ইতিহাসে এর আগে কোনও পরীক্ষার্থী সর্বভারতীয় সিএ পরীক্ষায় এত ভালো ফল কেউ করেননি বলে জানা গিয়েছে। ফলে খুশির এই কৃতিত্বে গর্বিত শহরবাসী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পরিবারের সদস্যরা।
খুশি শিখারিয়ার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর শহরের কেরানিটোলা এলাকার বাসিন্দা খুশি। ছোটবেলা থেকেই তিনি দারুণ মেধাবী এবং অত্যন্ত পরিশ্রমী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পড়াশোনার প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ এবং নিয়মিত অনুশীলনই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন তাঁর শিক্ষকরা। খুশির এই সাফল্য মেদিনীপুরের বহু পড়ুয়াকে ভবিষ্যতে আরও বড় লক্ষ্য স্থির করতে উৎসাহ দেবে বলেও মনে করছেন অনেকেই।
আরও পড়ুন: মোদীর হাইভোল্টেজ জনসভায় BJP-তে যোগদান ৪ হেভিওয়েটের? সামনে আসছে এই নামটিও
এর স্কুল জীবনেও ধারাবাহিকভাবে উজ্জ্বল ফলাফল করেছেন খুশি। মেদিনীপুরেরই একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে তিনি দশম শ্রেণির ICSE পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর পান। এরপর দ্বাদশ শ্রেণির ISC পরীক্ষায় কমার্স বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করে ৯৬ শতাংশ নম্বর অর্জন করেন। পরে কলকাতার একটি নামী কলেজে অ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেই পড়াশোনার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সিএ পরীক্ষায় বসেই সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নজির গড়েছেন তিনি।
নিজের এই সাফল্যের কৃতিত্ব খুশি তাঁর পরিবার এবং শিক্ষকদেরই দিয়েছেন। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা সব সময় পাশে থেকে তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারাও পড়াশোনায় নানা ভাবে সাহায্য করেছেন। ভালো ফলের আশা থাকলেও এত বড় সাফল্য পাবেন, তা তিনি কোনও দিনও ভাবেননি বলেই জানিয়েছেন। খুশির বাবা শচিন শিকারিয়া পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং মা প্রীতি শিকারিয়া গৃহবধূ। মেয়ের এই কৃতিত্বে রীতিমতো আপ্লুত তাঁরা।

আরও পড়ুন:গ্যাস সঙ্কটে রান্না বন্ধের অভিযোগ স্কুলে, মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে শুধুই সেদ্ধ ডিম
খুশির কাকা অনিল শিকারিয়া বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের মতো অত্যন্ত কঠিন এই পরীক্ষায় দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। খুশির কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। যে স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেছেন, সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা চন্দা মজুমদারও খুশির কৃতিত্বে গর্ব প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, এমন একটি সুখবর গোটা এলাকার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় এবং খুশির সাফল্য আগামী প্রজন্মের ছাত্রীদের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

















