বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানির দাম থেকে শুরু করে পরিবহণ খরচ সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বাড়ছে। তবে এই আবহে আশ্চর্যজনক ভাবে ডিমের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো চিত্রটাই দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিগত কয়েক দিনে ডিমের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যার জেরে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও বড় ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে সেই নিয়ে অনিশ্চিয়তা থাকায় ডিমের বাজারেও এক নতুন করে অস্থির পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের আবহে হু হু করে দাম কমছে ডিমের (Egg Price):
ব্যবসায়ী মহলের মতে, ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভারতের ডিম রফতানি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে দেশীয় বাজারে ডিমের জোগান হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। ন্য়াশনাল এগ কোঅর্ডিনেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, কর্নাটকে গত কয়েক সপ্তাহে ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে প্রতি ডিমের দাম ছিল প্রায় ৭.০৬ টাকা, সেখানে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৬০ টাকায়। এই দ্রুত পতনে ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: পরিশ্রম ও অদম্য জেদেই বাজিমাত! সর্বভারতীয় CA পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন মেদিনীপুরের খুশির
এর পাশাপাশি মুসলিমদের পবিত্র রমজানের মাস চলায় ডিমের ব্যবহারও কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একদিকে কম চাহিদা, অন্যদিকে উৎপাদন অব্যাহত থাকায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে। ফলে দাম আরও কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক উৎপাদক অতিরিক্ত ডিম হিমঘরে সংরক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে ডিম তিন মাস পর্যন্ত ভালো রাখা সম্ভব, তাই আপাতত বাজার স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন উৎপাদকরা।
একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তেলেঙ্গানাতেও। প্রায় দুই মাস আগে যেখানে প্রতি ডিমের দাম ৮ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল, বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এখন বাজারে ডিমের দাম ৩.৫০ থেকে ৩.৮০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অথচ এই রাজ্যে সাধারণত সারা বছর ডিমের দাম ৫ থেকে ৬ টাকার মধ্যে থাকে এবং অনেক সময় তা ৭ টাকাও ছুঁয়ে যায়।

আরও পড়ুন: মোদীর হাইভোল্টেজ জনসভায় BJP-তে যোগদান ৪ হেভিওয়েটের? সামনে আসছে এই নামটিও
তেলেঙ্গনায় প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডিম উৎপাদন হয় এবং রাজ্যের বার্ষিক ডিম উৎপাদনের আর্থিক মূল্য প্রায় ১৮,৬০০ কোটি টাকা, যা উৎপাদনের নিরিখে দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি ডিমে প্রায় ১.৫০ টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ডিম উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

















