বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) কপালে ফের চিন্তার ভাঁজ; বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মালাক্কা ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইন্দোনেশিয়া। সে দেশের অর্থমন্ত্রী পূর্বায় যুধি সাদেভা জানিয়েছেন, বিশ্ব বাণিজ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা এই পথটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
কতটা প্রভাবিত হবে ভারত (India)?
এই প্রণালীকে প্রায়ই হরমুজ প্রণালী, সুয়েজ খাল এবং পানামা খালের মতো বিশ্বের প্রধান জলপথগুলির সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী জাহাজ এই রুট ব্যবহার করলেও এখন পর্যন্ত কোনও টোল নেওয়া হয় না। ইন্দোনেশিয়ার দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ পথ ব্যবহার করেও রাজস্ব না পাওয়া তাদের জন্য অসুবিধার, তাই কর আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এই জলপথের উপর একাধিক দেশের অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুন: বেসরকারি হাসপাতালে কমবে চিকিৎসার খরচ! আমজনতাকে স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র
ইন্দোনেশিয়ার এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিঙ্গাপুর। সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে এই প্রণালী সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। তাঁর মতে, এখানে কোনও ধরনের টোল বা প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে এই প্রস্তাব প্রাথমিক স্তরে থাকলেও, এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক দেশের সম্মতি ছাড়া এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলিও এর বিরোধিতা করতে পারে, কারণ এতে পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হয়ে যান সাবধান! FASTag বার্ষিক পাসের ক্ষেত্রে এই ভুল করলেই পড়বেন বিপদে, সতর্ক করল NHAI
ভারতের (India) জন্য এই প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে এলএনজি, কয়লা, ইলেকট্রনিক্স এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া আন্দামান-নিকোবর এই পথের নিকটে অবস্থিত হওয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানও শক্তিশালী। যদি এই পথে টোল আরোপ করা হয়, তবে ভারতের আমদানি-রপ্তানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

















