বাংলাহান্ট ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি পাকিস্তান ও তাদের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। ভারতের সেনাবাহিনীর সেই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হয়েছিল। সেই ঘটনার এক বছরেরও বেশি সময় পরে এবার প্রকাশ্যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিল জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার। তাঁর অভিযোগ, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় জইশকে কার্যত মরতে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) এক বছর পরে আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিল জইশ প্রধান:
জইশ সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ৭ মে বাহাওয়ালপুরে ভারতের হামলার সময় পাকিস্তানের সেনা কোনওরকম সাহায্য করেনি। অথচ পরে নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্যে পাক সেনার বহু আধিকারিক হাজির ছিলেন এবং সামরিক সম্মানও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হামলার সময় উদ্ধার বা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কোনও সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি নিয়েই পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জইশ নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন: অভিষেকের ‘ভোট হিংসা’র তত্ত্ব খারিজ, হিজলি শরিফের আগুন ‘শর্ট সার্কিট’ থেকে, জানাল পুলিশ
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর বদলা নিতে ২০২৫ সালের ৬ মে গভীর রাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জঙ্গিঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তর, মুরাক্কায় লস্কর ঘাঁটি এবং হিজবুল মুজাহিদিনের একাধিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়। ভারতীয় হামলায় বহু জেহাদি নিহত হয়েছিল বলে জানা যায়।
ভারতের সেই হামলায় নিজের পরিবারের ১০ জন সদস্য এবং চারজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হওয়ার কথা নিজেই স্বীকার করেছিলেন মাসুদ আজহার। পরে জইশের শীর্ষ কমান্ডার মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরিও জানিয়েছিলেন, বাহাওয়ালপুরে বিস্ফোরণে আজহারের পরিবারের মোট ১৪ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই জইশ নেতৃত্বের মধ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
মাসুদ আজহারের আরও অভিযোগ, দিল্লি, কাবুল এবং কান্দাহারের মতো জায়গায় নিজেদের স্বার্থে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। কিন্তু সংকটের সময় তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। তাঁর বক্তব্য, হামলার সময় জইশকে কার্যত একা ফেলে রেখেছিল পাকিস্তানের সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে প্রত্যক্ষ মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তবে এভাবে প্রকাশ্যে দোষারোপের ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শুধু জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেনি, পাকিস্তান ও তাদের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির ভিতও নড়িয়ে দিয়েছিল। সেই আঘাত এখনও পুরোপুরি সারেনি বলেই মনে করা হচ্ছে। মাসুদ আজহারের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, ভারতের ওই অভিযানের প্রভাব এখনও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের উপর গভীর ছাপ ফেলে রেখেছে।













