বাংলা হান্ট ডেস্কঃ হিজলি শরিফে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হলেও এবার পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এলাকায় হামলা চালিয়ে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে অন্য ছবি। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে এবং ঘটনাকে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক রং না দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
হিজলি শরিফ আগুন কাণ্ডে পুলিশের (West Bengal Police) ব্যাখ্যা
পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির নিচকসবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হিজলি শরিফে সম্প্রতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে একাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতীরা এলাকায় হামলা চালিয়ে ৬০টিরও বেশি দোকানে আগুন লাগিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেছিলেন, এই হামলার লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়, বরং বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এভাবেই কি ভয়কে তাড়ানোর পরিকল্পনা? বাংলাকে জ্বালিয়ে দিয়ে?” এদিকে এই ঘটনার ভিডিও বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কিছু মৌলবাদী সংগঠন দাবি করে, মুসলিমদের দোকান বেছে আগুন লাগানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
তবে পুরো ঘটনাকে ঘিরে এবার বিস্তারিত তথ্য সামনে আনল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police)। ফেসবুকে একটি পোস্ট করে পুলিশ জানায়, তালপাটি ঘাট উপকূল থানার অধীন হিজলি এলাকায় সম্ভাব্য বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, মোট ২৫টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং ১২টি মুসলিম সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন দোকান। ফলে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায়কে টার্গেট করে হামলার অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলেই ইঙ্গিত প্রশাসনের। ঘটনার তদন্তে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা আহতের খবর মেলেনি। ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ (West Bengal Police)।
আরও পড়ুনঃ সরকার বদলের পর শিক্ষা দপ্তরে বড় ‘অ্যাকশন’, ইস্তফা SSC চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সভাপতির
একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ (West Bengal Police) সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে, এই ঘটনাকে ঘিরে কোনও বিভ্রান্তিকর বা সাম্প্রদায়িক প্রচার না করতে।













