বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের পুরসভাগুলিতে (Municipal Corporation) দীর্ঘদিন ধরেই ঠিকাদারি বিল, কাজের গুণমান এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে নানা অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছিল। কোথাও কাজ শেষ হলেও বিল মেলেনি, আবার কোথাও কাজ না করেই টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। পালাবদলের পর সেই সমস্ত অভিযোগ সামনে আসতেই এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল নতুন সরকার। দুর্নীতিতে লাগাম টানতে এবং পুর-পরিষেবার খরচে স্বচ্ছতা আনতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
পুরসভার (Municipal Corporation) দুর্নীতি রুখতে কী সিদ্ধান্ত ?
পুরসভা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল খতিয়ে দেখতে ও যাচাই করার জন্য ৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। এখন থেকে কোনও ঠিকাদার সংস্থাকে টাকা মেটানোর আগে সংশ্লিষ্ট কাজের গুণমান, বিলের বৈধতা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবে এই কমিটি।
গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। কোথাও রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হলেও ঠিকাদার টাকা পাননি, আবার কোথাও অভিযোগ উঠেছে এক সংস্থা কাজ করলেও অন্য সংস্থা সেই কাজের বিল তুলে নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকার বলছেন, “অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি আছেন, যাঁদের নির্দেশে অনেকে পেমেন্ট তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। যার ফলে আসল কন্ট্রাক্টররা টাকাটা পাচ্ছেন না।” এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলছেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যা যা পেমেন্ট বাকি আছে সেই কাজগুলো আমরা দেখব। কারণ ১৫ বছর তো খুব একটা ভাল রেপুটেশন নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের!” শুধু ঘোষণা নয়, ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে দফতর। সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বকেয়া বিল আপাতত স্থগিত রাখা হবে এবং প্রতিটি নতুন করে যাচাই করবে ৪ সদস্যের কমিটি।
জানা গেছে, কর্মচারীদের বেতন, দৈনিক মজুরি, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও পারিবারিক পেনশন, আদালতের নির্দেশে অর্থপ্রদান, পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থার খরচ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিফোন ও ইন্টারনেট বিল, ডাক ও স্টেশনারি খরচ, কম্পিউটার সরঞ্জাম, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অক্সিজেন ও ওষুধ, গাড়ি ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ, অফিস ভাড়া, নিরাপত্তারক্ষী এবং আইনজীবীদের পরামর্শ বাবদ খরচ এই স্থগিতাদেশের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
পুর-পরিষেবা সংক্রান্ত প্রতিটি বিল খুঁটিয়ে দেখে তবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি। কলকাতা পুরসভার স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকার বলছেন, “বেশিরভাগ জায়গাতে দেখা যাচ্ছে যে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে, কাজ হচ্ছে না। তার বড় কারণ হচ্ছে একটা দুর্নীতি হয়ে গেছে। সেই কারণে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। স্ক্রুটিনি হবে অ্যাপ্রুভাল দেওয়ার আগে, টাকা দেওয়ার আগে।”
একই সুর শোনা গিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের গলাতেও। তিনি বলেন, “যদি কাজের কোয়ালিটি ভাল থাকে তাহলে তো কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু টাকাটা নেবেন, কাজটা করবেন না, খারাপ কোয়ালিটির কাজ করবেন, সেগুলোর তো পেমেন্ট করব না।”
উল্লেখ্য, তৃণমূল আমলে বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ বারবার উঠেছে।

আরও পড়ুন :যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখলেই হতে পারে জরিমানা, শহরে চালু কড়া পার্কিং নিয়ম
এই অভিযোগের তদন্তে নেমে সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে যখন পুর প্রশাসন বারবার প্রশ্নের মুখে, তখন বিল পর্যালোচনায় এই নতুন কমিটি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও সাধারণ মানুষের।













