লস্করের সদস্যরাও দেখা করতে গেলে পেরোতে হচ্ছে একাধিক পাহারা! পাকিস্তানে হাফিজ সইদকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: লস্কর-ই- তৈবার (Lashkar-e-Taiba) প্রধান হাফিজ সইদকে (Hafiz Saeed) ঘিরে পাকিস্তানে (Pakistan) নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া লস্করের সদস্যদেরও একাধিক নিরাপত্তার স্তর পেরোতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আগে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যকলাপে হাফিজের সরাসরি উপস্থিতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার চলাফেরায় অনেকটাই লাগাম টানা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির কিংবা যুবকদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করার কথিত কেন্দ্রগুলিতেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে খবর। ফলে লস্কর ক্যাডারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বদলে এখন বড় বৈঠকগুলিতে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে কথা বলছেন তিনি।

পাকিস্তানে লস্কর প্রধান হাফিজ সইদকে (Hafiz Saeed) ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

হাফিজের (Hafiz Saeed) নিরাপত্তা বাড়ানোর পিছনে গত কয়েক মাসে তাকে ঘিরে একাধিক হামলার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, অতীতে হাফিজকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলার চেষ্টা হয়েছিল এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনও নিহত হয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তার নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়েছে বলে ওই সূত্রগুলির বক্তব্য। নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণেই হাফিজকে প্রকাশ্যে বা নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারি কর্মীদের আগস্ট মাসের বেতন নিয়ে বড় আপডেট! অর্থ দপ্তরের নয়া হিসেব দেখে নিন

হাফিজ বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, লাহোরের কোট লখপত জেলেই বন্দি রয়েছেন তিনি। তবে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টে অন্য দাবি সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, হাফিজকে লাহোরের মোহাল্লা জোহার এলাকার একটি সেফ হাউজে রাখা হতে পারে। আরও একটি রিপোর্টে লাহোরের মিঞা মীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বাড়ির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই দাবিগুলির কোনওটিই স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে যে জায়গাতেই তাকে রাখা হয়ে থাকুক, নিরাপত্তার ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার ঘটনায় হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে ভারতে ট্রায়াল ইন অ্যাবসেনশিয়া বা অনুপস্থিত অবস্থায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই হামলায় লস্কর-ই-তইবার ভূমিকার অভিযোগ বহুদিন ধরেই রয়েছে এবং হাফিজকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই মামলায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়ায় এই মামলায় হাফিজ দোষী সাব্যস্ত হলে, ভবিষ্যতে তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলে সেই রায়ের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে একদিকে আন্তর্জাতিক ও আইনি চাপ, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—দুই দিক থেকেই হাফিজকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল।

Tight security around Lashkar chief Hafiz Saeed in Pakistan.

 

আরও পড়ুন: ১০ লক্ষের ক্ষতি সামলে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন! দাঁড় করিয়েছেন ৮.৪ কোটির ব্যবসা, নজির গড়লেন জিবরান

অন্যদিকে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ক্ষতিগ্রস্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ফের সক্রিয় করার চেষ্টা লস্কর-ই-তইবা করছে বলে ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে দাবি রয়েছে। সেই সময় সংগঠনের শীর্ষ নেতা হাফিজের (Hafiz Saeed) সরাসরি উপস্থিতি না থাকা বিষয়টিও নজর কেড়েছে। আগে যেসব প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যকলাপে তার যাতায়াতের কথা শোনা যেত, এখন সেখানে তার বদলে ভার্চুয়াল যোগাযোগের উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, হাফিজ সইদকে ঘিরে পাকিস্তানের বাড়তি নিরাপত্তা শুধু তার ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয় নয়, এর সঙ্গে মুম্বই হামলার বিচারপ্রক্রিয়া, জঙ্গি সংগঠনের গতিবিধি এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জড়িয়ে রয়েছে।