বাংলাহান্ট ডেস্ক: বর্তমানে ওয়াটার পিউরিফায়ার প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতেই রয়েছে। আর সেইরকমই অন্যতম একটি বেস্ট ওয়াটার পিউরিফায়ারের নাম কেন্ট। কিন্তু এই ব্র্যান্ডের সফলতার কাহিনি (Success Story) কি জানেন? আজকের দিনে ভারতীয় বাড়িতে ওয়াটার পিউরিফায়ার প্রায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস হলেও, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তখন দেশে জল পরিশোধনের কোনও সংগঠিত বাজারই ছিল না। বাজারে কিছু ইউভি পিউরিফায়ার থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেগুলির প্রতি আস্থা খুব কম ছিল। ঠিক সেই সময়েই আইআইটি কানপুরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ডঃ মহেশ গুপ্ত এমন এক ব্যক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হন, যা পরবর্তীকালে ভারতের জল পরিশোধন শিল্পের চেহারাই বদলে দেয়। দূষিত জল পান করে তাঁর সন্তানরা জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই বিশুদ্ধ পানীয় জল নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা শুরু করেন তিনি।
মহেশ গুপ্তর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
ডঃ গুপ্ত বুঝতে পারেন, বাজারে উপলব্ধ ইউভি প্রযুক্তি জলে দ্রবীভূত ক্ষতিকারক উপাদান দূর করতে পারছে না। তখনই তিনি রিভার্স অসমোসিস বা RO প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু সেই সময় ভারতে এই প্রযুক্তি কার্যত অনুপস্থিত ছিল। তাই আমেরিকা থেকে বিশেষ মেমব্রেন ও পাম্প আমদানি করে বাড়িতেই তৈরি করেন প্রথম RO পিউরিফায়ার। পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি সেই যন্ত্র সফল হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, এই প্রযুক্তি শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় কেন্ট RO সিস্টেমস।
আরও পড়ুন:তামিলনাড়ুতে স্থায়ী হবে না বিজয়ের টিভিকে সরকার? নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু স্ট্যালিনের
আইআইটি কানপুর থেকে পাশ করার পর ডঃ মহেশ গুপ্ত ইন্ডিয়ান অয়েলের মতো নামী সরকারি সংস্থায় প্রথম শ্রেণির আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সন্তানের অসুস্থতা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি স্থায়ী চাকরি ছেড়ে মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেন। তবে পথটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রায় ছয় মাস ধরে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েও তিনি প্রথমদিকে পুরোপুরি বিশুদ্ধ জল তৈরি করতে ব্যর্থ হন। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পর অবশেষে এমন একটি ফর্মুলা তৈরি করেন, যা জল থেকে ক্ষতিকারক উপাদান কার্যকরভাবে দূর করতে সক্ষম হয়।
কেন্ট যখন প্রথম ভারতে RO পিউরিফায়ার বাজারে আনে, তখন তার দাম ছিল প্রায় ২০ হাজার টাকা। সেই সময়ের তুলনায় যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে মনে করা হত। অনেক খুচরো বিক্রেতা এবং সাধারণ গ্রাহকও এই প্রযুক্তির উপর আস্থা রাখতে পারেননি। কিন্তু ডঃ গুপ্ত অন্য পথ বেছে নেন। ছোট দোকানের বদলে টেলিভিশন, ফ্রিজ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর বড় শোরুমে তিনি কেন্টের পিউরিফায়ার প্রদর্শন শুরু করেন। এই বিপণন কৌশল দ্রুত কাজ করে এবং ধীরে ধীরে মানুষের ধারণা বদলাতে শুরু করে। ওয়াটার পিউরিফায়ার বিলাসিতা থেকে অত্যাবশ্যকীয় গৃহস্থালি সামগ্রীতে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন:অলিম্পিকে সোনা জিতলেই ৮ কোটির পুরস্কার! বাংলার খেলোয়াড়দের জন্য বড় প্রস্তাব ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথের
বর্তমানে কেন্ট শুধু জল পরিশোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সংস্থাটি এয়ার পিউরিফায়ার, স্মার্ট কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স এবং বিভিন্ন ওয়েলনেস পণ্যের ক্ষেত্রেও নিজেদের বিস্তার ঘটিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১,২৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ওয়াটার পিউরিফায়ার থেকেই এসেছে ১,০৫০ কোটি টাকা। বাকি আয়ের বড় অংশ এসেছে গৃহস্থালি অ্যাপ্লায়েন্স ও ফ্যান ব্যবসা থেকে। একটি পারিবারিক সংকট থেকেই শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ ভারতের অন্যতম সফল (Success Story)প্রযুক্তিনির্ভর ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।













