বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মহারাষ্ট্র সরকারের জনপ্রিয় ‘লাড়কি বহিন যোজনা’ (Government Scheme) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে প্রকল্পের সুবিধা এমন অনেকেই পাচ্ছেন, যাঁরা আসলে এর যোগ্য নন। কেউ সরকারি চাকরিজীবী, কেউ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল, আবার ভুয়ো তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই এবং ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক করার পর বড়সড় ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল সরকার। ফলে জুন মাস থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ মহিলা আর এই প্রকল্পের মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন না।
লাড়কি বহিন যোজনা | Government Scheme
মহারাষ্ট্রে চালু থাকা লাড়কি বহিন যোজনার (Government Scheme) মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এতদিন এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লক্ষ মহিলা সুবিধা পেতেন। তবে প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর উপভোক্তাদের তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু করে রাজ্য সরকার।
যাচাই প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, অনেক সরকারি কর্মচারী এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল মহিলাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কিছু ক্ষেত্রে পুরুষরাও মহিলা পরিচয় ব্যবহার করে এই ভাতার টাকা তুলছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই উপভোক্তাদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রকল্পে (Government Scheme) স্বচ্ছতা আনতে এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়দের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক করে। ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার শেষ তারিখ ছিল ৩১ মার্চ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেননি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ই-কেওয়াইসি না করা, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া, চাকরিজীবী হওয়া কিংবা ভুয়ো তথ্য দেওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে মোট প্রায় ৮০ লক্ষ উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে জুন মাস থেকে তাঁরা আর মাসিক ১৫০০ টাকার সুবিধা পাবেন না।

আরও পড়ুনঃ বেরোলেই মারবে জনতা! আজ কালীঘাটে মমতার ডাকা বৈঠক এড়াতে চাইছেন একাধিক তৃণমূল বিধায়ক
এই সিদ্ধান্তের ফলে লাড়কি বহিন যোজনার (Government Scheme) উপভোক্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে এই প্রকল্পের আওতায় ২.৪৬ কোটি মহিলা ছিলেন, সেখানে নতুন যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৬৬ কোটিতে। সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য মহিলাদের কাছেই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।













