বাংলা হান্ট ডেস্ক : নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের মন্ত্রীসভার (Ministers) গঠন। সোমবার রাজভবনে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নতুন মন্ত্রীরা। যে ৩৫ জন সদস্য মন্ত্রীসভায় শপথ গ্রহণ করলেন তাদের মধ্যে সাতজন মহিলা। তাঁদের মধ্যে কেউ আইনজীবী, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষিকা আবার কেউ জীবনের কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া মুখও।
বিজেপির মন্ত্রীসভায় (Ministers) মহিলারা
পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় কোনও মহিলার নাম দেখা যায়নি, তবুও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী পদে একাধিক মহিলা সুযোগ পেয়েছেন। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বিধায়ক মালতি রাভা রায়। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সমাজসেবা এবং কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এই নেত্রী দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি পেলেন নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে।
নতুন মন্ত্রীসভার সবচেয়ে আলোচিত মুখগুলির অন্যতম কলিতা মাজি। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়া এই বিধায়কের জীবনকাহিনি বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার। সংসার চালানোর জন্য একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও সেই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজ সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
প্রথমবার বিধায়ক হয়ে মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন বর্ধমান দক্ষিণের মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। পেশায় আইনজীবী এই নেত্রী উচ্চশিক্ষিত এবং নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছেন। একইভাবে শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে জিতে আসা পূর্ণিমা চক্রবর্তীও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্যের অধিকারী। তিনি একসময়ের প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে আলোড়ন তুলেছিলেন।
মুর্শিদাবাদের কান্দি কেন্দ্রের বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ পেশাগত জীবনে একজন সফল ব্যবসায়ী। নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ের পর এবার প্রশাসনিক দায়িত্বও পেলেন তিনি। অন্যদিকে হুগলির বলাগড় কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী সুমনা সরকার শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই নেত্রী স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে আজ মন্ত্রীসভার সদস্য।

আরও পড়ুন : অনুপ্রবেশ রোধে জোর! দিল্লিতে বৈঠকে বসছে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনী
উল্লেখ্য, এর আগেই ৯ মে ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আরও পাঁচজন মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। সেখানে অগ্নিমিত্রা পালও মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের। ফলে বর্তমান প্রশাসনে মোট সাতজন মহিলা মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাবেন। নতুন সরকারের সামনে রয়েছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব। সেই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে আসা এই মহিলা প্রতিনিধিদের ভূমিকা আগামী দিনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।














