অনুপ্রবেশ রোধে জোর! দিল্লিতে বৈঠকে বসছে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনী

Published on:

Published on:

India-Bangladesh border forces are meeting in Delhi.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সীমান্ত সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আগামী সপ্তাহে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব। আগামী ৮ জুন থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হবে তিন দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, যেখানে অংশ নেবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথমবার দুই দেশের বাহিনীর ডিজি পর্যায়ের বৈঠক হতে চলেছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির পাশাপাশি এই বৈঠককে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনাও বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

দিল্লিতে বৈঠকে বসছে ভারত-বাংলাদেশের (India-Bangladesh) সীমান্ত বাহিনী:

সূত্রের খবর, বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং ভারতে ধরা পড়া বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার অভিযোগ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য আদানপ্রদান আরও জোরদার করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৬ বছরের কম হলেই ‘নো এন্ট্রি’, ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে জারি নতুন বিধি

এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি, চোরাচালান, মানবপাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্তে বাড়তি নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

ঘটনাচক্রে, এমন এক সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে যখন ভারত ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের কাজে গতি আনতে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও কার্যকর করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন জেলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য হোল্ডিং সেন্টারও খোলা হয়েছে। ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এখন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হয়ে উঠেছে।

ভারত ও বাংলাদেশের (India-Bangladesh) মধ্যে প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থলসীমান্ত। তবে এখনও প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার এলাকায় ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা, নদী বা অন্য বিশেষ পরিস্থিতির কারণে কাঁটাতার বসানো সম্ভব নয়। এই কারণেই সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, যৌথ টহল এবং দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধিই এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে।

India-Bangladesh border forces are meeting in Delhi.

আরও পড়ুন: রেজিস্ট্রি করালেও লাভ নেই! অবৈধ নির্মাণ ভাঙতেই হবে, স্পষ্ট বার্তা হাই কোর্টের

রাজনৈতিক দিক থেকেও এই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বাংলাদেশে (India-Bangladesh) ক্ষমতায় আসার পর নয়াদিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক নতুন করে গতি পেতে শুরু করেছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল। তবে নতুন সরকারের আমলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠক শুধু নিরাপত্তা নয়, দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।