বাংলা হান্ট ডেস্ক : লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmi Bhandar) প্রকল্পে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার নামে বহু ভুয়ো অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ পৌঁছে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মী ভান্ডারের (Lakshmi Bhandar) টাকা দুর্নীতির তদন্ত
সোমবার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তদন্তেই কিছু তথ্য সামনে এসেছে যা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রকৃত মহিলা উপভোক্তার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের টাকা তুলেছেন। ভুয়ো অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখনও পর্যন্ত ২২টি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখানে মহিলা নয়, পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিতেন।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লক্ষ্মী ভান্ডারের টাকা নয়ছয়ের ব্যাপারে প্রমাণস্বরূপ তুলে ধরে দাবি করেন, “মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ১৫টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাচ্ছেন, তারিকুল রহমানের ৬টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।” শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের সুবিধা আরও বহু অযোগ্য ব্যক্তি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেন, আরও অনেকে টাকা পাচ্ছেন।”
এই পরিস্থিতিতে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। সেই কারণেই পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “পুলিশকে তদন্তে আরও বেশি সক্রিয় হতে বলছি। ডিজিপি-কে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে যে সংখ্যক ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে, তা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।
উল্লেখ্য, হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ লক্ষ অ্যাকাউন্টে ভুলভাবে সরকারি অর্থ পৌঁছেছে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে মাসে ১,৫০০ টাকা করে জমা হলে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ অপচয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।এছাড়াও বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (SIR)-এর ফলে উপভোক্তাদের তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : মন্ত্রীসভায় বড় চমক ! শুভেন্দুর টিমে কোন মহিলারা পেলেন দায়িত্ব ?
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “এসআইআরে বাদ যাওয়া নাম ও পুরুষ উপভোক্তা মিলিয়ে অন্তত ৩০ লক্ষ নাম বাদ যাবে। হিসেব বলছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করেছে পূর্বতন সরকার।” লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। SIT তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে প্রকৃত অনিয়মের পরিমাণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।














