ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। এবার সেই কথাই তুলে ধরল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে নৈতিকতার মাপকাঠিতে বিচার করে কোনও ব্যক্তির কর্মজীবন নষ্ট করা যায় না।
কী জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?
মামলাটির সূত্রপাত তেলঙ্গানার এক যুবককে ঘিরে, যিনি পুলিশ বিভাগে নিয়োগের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ওঠা একটি অভিযোগের জেরে সমস্যার সূত্রপাত হয়। এক তরুণী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন, দীর্ঘদিন সম্পর্ক থাকার পরও বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি ওই যুবক। তাঁর দাবি ছিল, বারবার বিয়ের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন যুবক।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে জমা পড়া চার্জশিটে যুবক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম থাকলেও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি লোক আদালতে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। তেলঙ্গানা সরকার যুবককে ‘মোরাল টারপিটিউড’ বা নৈতিক স্খলনের অভিযোগে পুলিশ চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে।
সরকারের বক্তব্য ছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের চরিত্র নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। পরে তেলঙ্গানা হাইকোর্টও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর যুবক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানিতে বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ রাজ্য সরকারের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি। আদালত জানায়, ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া বা সেই সম্পর্ক বিয়েতে পরিণত না হওয়া কোনওভাবেই চাকরির অযোগ্যতার কারণ হতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আজকের দিনে প্রাপ্তবয়স্ক ও অবিবাহিত কোনও তরুণ বা তরুণীর এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া তাঁর চরিত্রের খারাপ দিক বলে বিবেচিত হতে পারে না, হওয়া উচিতও নয়। দেশে এমন কোনও আইন থাকতে পারে না যা কোনও প্রাপ্তবয়স্ককে তাঁর পছন্দের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে থাকতে বাধা দিতে পারে। এই সহজ সত্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট আরও লক্ষ্য করে যে, আবেদনকারী তাঁর অতীত সম্পর্কে কোনও তথ্য লুকোননি। চাকরির আবেদনপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। এমনকি মামলার নিষ্পত্তি এবং তরুণীর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও গোপন করেননি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এমন কোনও উপাদান নেই যা আবেদনকারীর সততা বা চরিত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

আরও পড়ুন : DA নয়, রাজ্যের এই সরকারি কর্মীদের জন্য আরও বড় ‘সুখবর’ দিল রাজ্য সরকার
এছাড়া আদালত এ-ও উল্লেখ করে যে, অভিযোগকারী তরুণী পরে আর মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাননি। সেই পরিস্থিতিতে একজন চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে স্থায়ী নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা ন্যায়সংগত নয়। ফলে তেলঙ্গানা সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে আবেদনকারীর পক্ষে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট।













