বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসে চলতে থাকা ভাঙনের আবহে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লেখানো নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এরই মাঝেই তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক ও অভিনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Nayna Bandopadhyay) ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নানা জল্পনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মুখ হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ সাংসদের সিদ্ধান্তে দলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তবে কী এবার বিরোধী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গেই এবার মুখ খুললেন তিনি।
কী বললেন নয়না(Nayna Bandopadhyay) ?
সম্প্রতি সুদীপ ও নয়নাকে ঘিরে কটাক্ষ করেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “একাধিকবার উনি দল ছেড়েছেন। আমাদের তাতে আপত্তি নেই। উনি যেখানে খুশি যান। কিন্তু এভাবে এতদিন একটা সুবিধা নিয়ে দলটা কেন ছাড়ল। তবে একটা সুবিধা ওদিকে হল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তো আর এক যাবেন না। ওনার তো আবার বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। সঙ্গে আরেকজনকে নিয়েও যাবেন।”
এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ছেড়ে কোথাও যাব না, উনি তাড়িয়ে দিলে অনাথ হয়ে ঘুরব। তবু দিদিকে ছেড়ে যাব না।” এদিন কল্যাণকে উদ্দেশ করে করা কটাক্ষের সমালোচনা করে নয়না বলেন, “এতে আমার আত্মমর্যাদাতে কোথাও লাগছে। আমি মনে করি যাঁরা বলছেন তাঁরা একেবারেই নিম্নরুচির। মহিলাদের সম্মান দিতে জানেন না।”
স্বামী সুদীপ রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কী করেছেন সেটা ওনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমাকে এর সঙ্গে এভাবে টেনে নিয়ে কটূক্তি করা আমার মনে হয় অনুচিত।” আদি তৃণমূলেই থাকবেন নয়না। এই প্রসঙ্গে নিজের দলীয় আনুগত্যের কথা তুলে ধরে নয়না বলেন, “আমি দিদিকে ছাড়তে যাব কেন? আমার কী অসুবিধা আছে! আমি কোনওদিন দিদিকে ছাড়ব না। দিদি আমায় ছেড়ে দিলে আমি অনাথের মতো ঘুরব তবু ছাড়ব না। আমাকে কী কেউ জিজ্ঞেস করছে আমি কোথায় আছি? আমি নিশ্চই দিদির সঙ্গে আছি। আমি কোথাও যাব না।”

আরও পড়ুন : সায়নী আউট! যুব তৃণমূলের শীর্ষ পদে অর্ণব বন্দোপাধ্যায়, তাঁর আসল পরিচয় চমকে দেবে
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দেন তিনি। নয়নার কথায়, “আমার সঙ্গে এই বিষয়ে সুদীপের কোনও কথা হয় না। আমি শুধু রাতে সাড়ে এগারোটা, পৌনে বারোটা নাগাদ ফোন আসে। আমি কথা বলছি। শুধু ঠিক মতো দিন কেটেছে কিনা। খাওয়া দাওয়া করেছেন কিনা। ওষুধপত্র খেয়েছেন কিনা এই ধরণের কথাবার্তাই হচ্ছে।”

















