কলকাতায় কি কমতে চলেছে ফ্ল্যাটের দাম? জোর জল্পনা

Published on:

Published on:

Kolkata Flat Price Drop in Kolkata After Syndicate Disappears
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নির্মাণ শিল্পে বড় পরিবর্তনের দাবি উঠতে শুরু করেছে। বহু বছর ধরে আলোচনায় থাকা সিন্ডিকেট রাজের প্রভাব কমেছে বলে দাবি করছেন প্রমোটার ও নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একাংশ। তাদের মতে, নির্মাণের সময় যে অতিরিক্ত খরচ চাপিয়ে দেওয়া হতো, তা কমলে ভবিষ্যতে আবাসনের দামেও (Kolkata Flat Price)প্রভাব পড়তে পারে। যদিও পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে বদলেছে কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।

কলকাতা ফ্লাটের দাম (Kolkata Flat Price) কমবে?

নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির দাবি, আগে কোনও বড় প্রকল্প শুরু করতে গেলে স্থানীয় সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই হতো। বালি, সিমেন্ট-সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী তাদের কাছ থেকে কিনতে চাপ দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে এর জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হতো নির্মাতাদের। ইএম বাইপাসের ধারের একটি বড় প্রকল্পের এক আধিকারিক জানান, গত কয়েক সপ্তাহে স্থানীয় সিন্ডিকেটের সদস্যদের আর দেখা যাচ্ছে না। আগে প্রতিদিন কত ট্রাক বালি লাগবে, তা নিয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলতে হতো। এখন সেই বাধ্যবাধকতা নেই।

কোটি টাকার বাড়তি খরচ

নির্মাণ শিল্পের একাধিক সূত্রের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণে প্রকল্পের খরচ অনেক বেড়ে যেত। বাইপাস সংলগ্ন প্রায় ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে শুধু সিন্ডিকেটকেই প্রায় ৩ কোটি টাকা দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ। এক নির্মাণ সংস্থার কর্তা জানান, প্রকল্প শুরুর আগে স্থানীয় কয়েকটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে বৈঠকে বসতে বাধ্য করা হয়েছিল। তারা বালি ও সিমেন্ট সরবরাহের দাবি তোলে। এমনকি বাইরে থেকে আসা কংক্রিটের প্রতিটি কন্টেইনারের জন্যও আলাদা টাকা চাওয়া হতো বলে অভিযোগ। একটি স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত প্রকল্পে প্রতি কন্টেইনারের জন্য ১,২০০ টাকা করে অতিরিক্ত দিতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

বালির ব্যবসায় অনিয়মের অভিযোগ

নির্মাণ সংস্থাগুলির অভিযোগ, পুরো টাকার বিল নেওয়া হলেও অনেক সময় নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম বালি সরবরাহ করা হতো। চুক্তি অনুযায়ী যতটা মাল পাওয়ার কথা, বাস্তবে তার অনেকটাই কম দেওয়া হতো। কিন্তু সেই নিয়ে প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকত না বলে অভিযোগ।

ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছিল কেন?

রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলির দাবি, এই বাড়তি খরচের প্রভাব সরাসরি পড়ত ফ্ল্যাটের দামের (Kolkata Flat Price) উপর। কলকাতা ও নিউ টাউনের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতি বর্গফুটে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ চাপত। শেষ পর্যন্ত সেই টাকাই ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করা হতো। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আবাসনের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়ে যেত বলে অভিযোগ।

শুধু বড় প্রমোটার নয়, সাধারণ মানুষও এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ। পাটুলির এক প্রবীণ দম্পতি বাড়ি রং করার কাজ শুরু করার পর এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন। টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এলাকার আরও এক বাসিন্দার দাবি, নতুন বাড়ি তৈরি করতে গেলে প্রতি বর্গফুটে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হতো। ফলে বাড়ি তৈরির খরচ অনেক বেড়ে যেত।

গ্রেফতার একাধিক কাউন্সিলর

অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা ও বিধাননগর পুর এলাকার অন্তত ১২ জন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং ভয় দেখানোর মতো একাধিক বিষয়। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, এখনও অনেক সিন্ডিকেট সদস্য ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাই গোটা চক্র ভেঙে পড়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব সত্যিই কমে গেলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং ব্যবসার পরিবেশও উন্নত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য শোনা যাচ্ছে।

Mamata Banerjee launches affordable flat at Newtown

আরও পড়ুনঃ কন্ডোম, ম্যাসাজ মেশিন, নগদ টাকা! তৃণমূল কাউন্সিলরের অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে মিলল কী কী?

তবে অনেকেই এখনও অপেক্ষা করে দেখতে চাইছেন এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হয়। কারণ বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি বদলালেই তার প্রভাব পড়বে আবাসন বাজার এবং ফ্ল্যাটের দামের (Kolkata Flat Price) উপর।