NEET-এর আবহে সপ্তাহব্যাপী কেন নিষিদ্ধ টেলিগ্রাম? প্রশ্ন উঠতেই কারণ জানাল কেন্দ্র

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নিট প্রশ্ন ফাঁস এবং পরীক্ষাকে ঘিরে বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে টেলিগ্রাম (Telegram) অ্যাপের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের উপর সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ। তবে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কোনওভাবেই কণ্ঠরোধের প্রচেষ্টা নয়, বরং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নেওয়া একটি বিশেষ পদক্ষেপ।

NEET-এর আবহে সপ্তাহব্যাপী কেন নিষিদ্ধ টেলিগ্রাম (Telegram)?

বুধবার সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানান, ‘নিট’ পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে টেলিগ্রামের (Telegram) বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতারণা, তোলাবাজি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যাপটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ লক্ষ্যভিত্তিক এবং সময়সীমাবদ্ধ। বিশেষত পরীক্ষার সময় যাতে ভুয়ো তথ্য, গুজব এবং প্রতারণার জাল ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেই নজর দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: জি-৭ সম্মেলনে একী কাণ্ড! মেলোনির ঠোঁটে চুম্বন জেলেনস্কির? চরম অস্বস্তিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী

অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পাভেল দুরভ। তিনি অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহের জন্য টেলিগ্রাম বন্ধ করে প্রকৃত অপরাধীদের ধরা যাবে না। বরং এর ফলে দেশের প্রায় ১৫ কোটি ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়বেন। দুরভের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে নিষিদ্ধ করার বদলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার উচিত অপরাধীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে নিট পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেলের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘পেপার লিকড লিট’, ‘রি-নিট ২০২৬’ এবং ‘রি নিট মাফিয়া’-র মতো বিভিন্ন চ্যানেলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছিল। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এনটিএ স্পষ্ট করেছে, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত। পরীক্ষার্থীদের এ ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছে সংস্থাটি।

Central govt reveals why Telegram was banned for a week amidst the NEET issue.

আরও পড়ুন: আত্মনির্ভর ভারতের বিরাট সাফল্য! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল দেশ, চমকে দেবে পরিসংখ্যান

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রযুক্তি যেমন তথ্যের আদানপ্রদান সহজ করেছে, তেমনই অপরাধ চক্রের হাতেও তা শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠছে। ফলে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এখন নজর দিল্লি হাই কোর্টের দিকে। আদালত টেলিগ্রামের (Telegram) আবেদন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা শুধু নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়, দেশের ডিজিটাল নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।