বাংলাহান্ট ডেস্ক: একসময় ভারতের (India) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশই নির্ভর করত বিদেশি অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির উপর। কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র আমূল বদলেছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে যে জোর দেওয়া হয়েছে, তার ফল মিলতে শুরু করেছে পরিসংখ্যানে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবর্ষে এই উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১.৫৪ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি হয়েছে ১৫.৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে এই উত্থান শুধু উৎপাদনের অঙ্কেই নয়, বরং দেশের কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল ভারত (India):
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকা। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা প্রায় ১১০ শতাংশ বৃদ্ধি। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দশকের কিছু বেশি সময়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের দাবি, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির ফলে দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র নির্মাণ ও গবেষণায় বড়সড় অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
এই সাফল্যের নেপথ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও সরকারি সহায়তায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে। অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলির অবদান দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশে। যদিও শতাংশের বিচারে এই অংশ তুলনামূলক কম, তবুও বেসরকারি খাতের উৎপাদনমূল্য প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। আগের অর্থবর্ষের তুলনায় বেসরকারি খাতের উৎপাদন ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারত এখন শুধু নিজস্ব প্রতিরক্ষা চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি সিস্টেম, ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বিদেশেও বাড়ছে। বিশ্বের বহু দেশ ভারতের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সরকারের মতে, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা রপ্তানিও আগামী দিনে ভারতের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: করতেন কল সেন্টারে চাকরি! দীর্ঘ ৮ বছরের লড়াইয়ে UPSC-তে বাজিমাত, উদ্বুদ্ধ করবে IPS সূরজের কাহিনি
প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এই রেকর্ড বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সমাজমাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্বে ভারতের (India) প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রতি বছর নতুন মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছে। তাঁর মতে, ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা, নতুন উদ্যোগ, বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে আগামী বছরগুলিতে এই খাত আরও দ্রুত এগোবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি ভারতকে শুধু সামরিকভাবে শক্তিশালী করছে না, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে।

















