বর্ষা ঢোকার আগেই প্রস্তুত রেল, লাইনে জল জমা আটকাতে হাওড়া-শিয়ালদহ ডিভিশনে ঢালাও ব্যবস্থা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক : বাংলার দোরগোড়ায় বর্ষা। বৃষ্টির মরশুমে হাজার একটা সমস্যার মধ্যে অন্যতম রেললাইনে (Indian Railways) জল জমে যাওয়া। আর তাহলেই ভোগান্তির একশেষ যাত্রীদের। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে রেললাইনে জল জমে যাওয়া বর্ষাকালে সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইনে জল জমলেই থমকে যায় ট্রেন। তারপর নাকাল হতে হয় যাত্রীদের। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এবার আগেভাগেই সতর্ক হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেললাইনে জল জমা আটকাতে উদ্যোগ রেলের (Indian Railways)

বর্ষা পুরোদমে ঢোকার আগেই যাতে কাজ এগিয়ে রাখা যায় তার জন্য এখন থেকেই বড় উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব রেল। একগুচ্ছ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে রেলের তরফে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে কাজ। বৃষ্টি হলেও রেললাইন যাতে পরিস্কার থাকে, জল জমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত না হয় সেদিকে নজর রাখছে রেল। রেল ইয়ার্ড এবং কলোনিগুলিতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশনে ইয়ার্ড পরিস্কার করা হয়েছে। হাওড়া ডিভিশনে ট্র্যাকের পাশে এবং ক্রস ট্র্যাকের ১০৬,৮৩৯ মিটার লম্বা ড্রেনের মধ্যে অধিকাংশ অংশ পরিস্কার করা হয়েছে। দুই ডিভিশনেই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলি খুঁজে বের করে ড্রেন আউটলেটগুলি পরিস্কার করা হয়েছে।

Indian Railways preparation for upcoming monsoon

নজরদারি চলছে সাবওয়েতে: জলস্তর পর্যবেক্ষণের জন্য হাওড়া ডিভিশনে ১০ টি নতুন লিমিটেড হাইট সাবওয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটিতে ২৪ ঘন্টার জন্য একজন করে পেট্রোলম্যান (Indian Railways) নিযুক্ত করা হয়েছে। যে সমস্ত জায়গায় জল জমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি রয়েছে, সেখানে আরও ৫৪ টি সাবওয়েতে কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশনেও জল নিকাশি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্ল্যাটফর্ম, শেড পরিদর্শন করা হচ্ছে হাওড়া ডিভিশনে।

আরও পড়ুন : চেটেপুটে খাচ্ছেন ইলিশ, মাছের ‘এই’ অংশ কিন্তু ভুলেও মুখে তুলবেন না

গাছ ছাটাই অভিযান: ঝড়ে গাছ পড়ে ওভারহেড লাইন ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা যাতে এড়ানো যায় সেদিকেও তৎপর রেল। ট্র্যাক বরাবর গাছ ছাটাই অভিযান চলছে। এতে লোকো পাইলটদের দৃশ্যমানতাও বাড়বে। রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং পদ্ধতিতে নজরদারি চালাচ্ছে রেল। হাওড়া ডিভিশনে মোট ৪৭ টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ টি জায়গায় শুরু হয়েছে টহলদারি। বাকি ৩৮ টি জায়গাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে বৃষ্টি শুরু হলে সেখানেও টহলদারি শুরু করা যায়।শিয়ালদহ ডিভিশনেও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করে চার্ট তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : জনকল্যাণ শিবিরে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর রেজিস্ট্রেশন করেছেন? ২৫ জুনের মধ্যে সারতে হবে ‘এই’ কাজ

ভারী বৃষ্টিতেও যাতে ট্রেন পরিষেবা সক্রিয় রাখা যায় তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রেল। আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি ঠেকাতে পাথরের গুঁড়ো, ভারী বোল্ডার মজুত করা হয়েছে। এবার বর্ষায় পরিষেবা সচল রাখতে এবং যাত্রীদের হয়রানি ঠেকাতে সদা সতর্ক রেল।