বাংলা হান্ট ডেস্ক : কাঁচরাপাড়ার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলকে ঘিরে নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় (Cash found in School) নতুন মোড়। কয়েকদিন আগেই কোটি টাকারও বেশি নগদ উদ্ধার হয়েছিল ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। এবার ফের সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আরও কয়েক লক্ষ টাকা উদ্ধার করায় প্রশ্ন উঠছে, স্কুল চত্বরে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ মজুত ছিল এবং সেই টাকার প্রকৃত উৎসই বা কী।
স্কুলে তল্লাশি চালিয়ে টাকা উদ্ধার (Cash found in School)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফার অভিযানে স্কুল থেকে ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর তদন্ত এগোতে থাকলে ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুনরায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, গত ১৫ জুন গভীর রাতে তদন্তকারী দল আবার স্কুলে পৌঁছয়। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়া অ্যাকাউন্ট্যান্ট অভীক নাগ এবং জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন পালকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তল্লাশির সময় স্কুলের বিভিন্ন অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা। সেই অনুসন্ধানেই আরও ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয় বলে দাবি পুলিশের। ফলে দুই দফার অভিযানে উদ্ধার হওয়া মোট নগদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীদের অনুমান, স্কুলের অন্য কোথাও আরও অর্থ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থের সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং কাঁচরাপাড়ার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর যোগ রয়েছে। সুদীপ্ত দাসের কথায়, “শুধু একটা স্কুলে নয়, আমার ধারণা আরও অনেক জায়গায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ওরা টাকা রেখেছে। যে জায়গা ওরা নিরাপদ মনে করেছে, যেখানে কারও নজর পড়বে না, সেখানেই টাকা রাখা হয়েছে। না হলে স্কুলে এত টাকা থাকতে পারে না।”
এলাকার বিধায়কের কথা অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চালানোর পর থেকেই নাকি বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে রাখার চেষ্টা শুরু হয়েছিল। তাঁর দাবি, এফআইআরে নাম থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং অতিরিক্ত নগদের হদিস মিলতে পারে।

আরও পড়ুন : নবান্নের বৈঠকে বড় চমক! বাংলার জল প্রকল্পে ৩৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ
স্কুল থেকে বিপুল নগদ উদ্ধারের এই ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, সেই অর্থ কোথা থেকে এল এবং এর নেপথ্যে আর কারা জড়িত থাকতে পারে, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। আগামী দিনে এই মামলায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।













