বাংলা হান্ট ডেস্ক : নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫.২৯ কোটি টাকার বাজেট পেশ করে উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সুন্দরবন(Sundarban)। স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণ, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যচাষের উন্নয়ন এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
সুন্দরবনের(Sundarban) জন্য বিশেষ বরাদ্দ
দ্বীপাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করতে সুন্দরবনে একটি অত্যাধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় জরুরি রোগী পরিবহণের জন্য চালু হবে জলপথভিত্তিক অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। মাতৃসুরক্ষার দিকে নজর দিয়ে বিভিন্ন দ্বীপে প্রসবকালীন চিকিৎসার জন্য পৃথক কেন্দ্র স্থাপনের কথাও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি রোগীদের খাবারের মানোন্নয়নে মাথাপিছু খরচ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য মুম্বই বা ভেলোরে যাওয়া রোগীদের থাকার সমস্যা দূর করতে বিশেষ আবাসন ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে জল ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে নদীকেন্দ্রিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জল সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই ওই অঞ্চলে ভবিষ্যতের জলসংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে আরও স্থিতিশীল করে তোলা।
আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তায় কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া নদীখাতগুলিকে পুনরায় সচল করার কাজ চলবে। এর ফলে জলপ্রবাহ বাড়বে এবং কৃষি ও মৎস্যচাষ উভয় ক্ষেত্রই উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নোনা জল ও জলাভূমি নির্ভর মাছচাষকে উৎসাহ দেওয়া হবে, যা সুন্দরবনের বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ অরণ্য সম্প্রসারণের কাজেও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন : বেকারদের জন্য ‘ভরসা’, বাজেটে মাসিক ভাতা ঘোষণা, জেনে নিন যোগ্যতার শর্ত
প্রসঙ্গত, প্রায় প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামলায় সুন্দরবন। সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পৃথক আর্থিক কাঠামো গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বাজেটে সুন্দরবনের জন্য শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং স্বাস্থ্য, কৃষি, জীবিকা, পরিবেশ এবং দুর্যোগ মোকাবিলাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে সুন্দরবনের উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

















