জেলার উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ! বাজেটে কোন জেলা কী পেল, দেখে নিন

Published on:

Published on:

Crores of rupees for district development! See district wise West Bengal budget
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে (West Bengal Budget) উন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক পরিকল্পনার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। উপকূল থেকে পাহাড়, জঙ্গলমহল থেকে শিল্পাঞ্চল—প্রতিটি অঞ্চলের প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কোথাও স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ, আবার কোথাও শিল্প ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে (West Bengal Budget) কোন জেলায় কোন খাতে বরাদ্দ ?

উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নদীভাঙন রুখতে এবং সুরক্ষা জোরদার করতে ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীবাঁধ সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হচ্ছে। বাজেটে এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১,০০০ কোটি টাকা।দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ আরও সহজ করতে মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। জমি সংগ্রহের জন্য রাখা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। ফলতাকে বিশেষ উন্নয়ন মডেল ব্লক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সুন্দরবনের দ্বীপাঞ্চলে যাতায়াত ও পরিবহণ পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে বরাদ্দ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। কুলপি-সহ জেলার বিভিন্ন বন্দর আধুনিকীকরণ এবং মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাজেটে হাওড়া জেলার পাটশিল্পকে নতুন গতি দিতে গড়ে তোলা হবে বিশেষ শিল্পগুচ্ছ বা ক্লাস্টার।নদিয়ার কল্যাণীতে প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের জন্য ১,০০০ থেকে ১,৫০০ একর জমি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। মায়াপুরকে বিশ্বমানের ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ১,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের কালনা ও শান্তিপুরের মধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ১,২০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল ও দুর্গাপুরের মধ্যে মেট্রো পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সমীক্ষা করা হবে।এই জেলায় আরও একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গাপুর, আসানসোল ও পানাগড় অঞ্চলে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হুগলি জেলার ডানকুনিকে পূর্ব ভারতের অন্যতম লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ডানকুনি-সুরাট মালবাহী করিডর বাস্তবায়নের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। ডানকুনি জংশন থেকে মগরা পর্যন্ত নতুন করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনায় ফ্লাইওভার, সার্ভিস রোড এবং পার্কিং অবকাঠামো থাকবে।

আরও পড়ুন : বিদ্যুতের বিলে বড় ছাড়, বাজেটে শুভেন্দু সরকারের চমক! কতটা কমবে খরচ?

বীরভূম জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনের সেতু নির্মাণ হবে। ময়ূরাক্ষী নদীর উপর আরও একটি সেতুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বক্রেশ্বরে ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড় এলাকায় বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার মধ্যে সর্বকালীন যোগাযোগের জন্য নতুন সেতু নির্মাণে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা সমস্যার সমাধানে বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য ১,২০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ফুলচাষকে উৎসাহ দিতে কোলাঘাটে সমন্বিত ফুলবাজার হাব গড়ে তোলা হবে। বাজেটে ঝাড়গ্রাম জেলার আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে নতুন আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয় ১৫০ কোটি টাকা, যার মধ্যে চলতি বছরে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জীবিকার মানোন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় বিশেষ কর্মসূচি চালু হবে। এছাড়া ১৬০ একর জমির উপর টাইগার সাফারি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া জেলায় একটি নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।

পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়, মুরগুমা, খয়রাবেড়া ও বরন্তীকে কেন্দ্র করে সমন্বিত পর্যটন পরিক্রমা গড়ে তোলা হবে। উড়ান প্রকল্পের আওতায় নতুন বিমানবন্দরও তৈরি হবে। মালদহ জেলায় আম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের আয় বাড়াতে আধুনিক ভ্যালু চেইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। হিট ট্রিটমেন্ট ইউনিট এবং প্যাক হাউস তৈরিতে ৫০ কোটি টাকা খরচ করা হবে। উড়ান প্রকল্পের মাধ্যমে বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর এলাকায় নদীভাঙন ও বন্যা মোকাবিলায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিড়ি শ্রমিক হাসপাতালের পরিষেবা আধুনিকীকরণ করা হবে।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। বস্ত্রশিল্পের প্রসারে টেক্সটাইল পার্ক গড়ে তোলা হবে।উড়ান প্রকল্পে বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

জলপাইগুড়ি জেলায় শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি মেট্রো প্রকল্প বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। আলিপুরদুয়ার জেলায় একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা চালু হবে। কোচবিহারে বর্তমান বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Crores of rupees for district development! See district wise West Bengal budget

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার, আনন্দে আত্মহারা সকলে

দার্জিলিংয়ের শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যার মধ্যে স্টেডিয়াম ও ইনডোর অ্যারেনা থাকবে।
চা শিল্পকে শক্তিশালী করতে টি প্রসেসিং সেন্টার তৈরি করা হবে। প্রাকৃতিক জলধারা সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে একটি এইমস ও ক্যান্সার হাসপাতালের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কালিম্পং-এ নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাহাড়ি ঝরনাগুলির পুনরুজ্জীবনের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।