বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) জন্য ইরান যুদ্ধ এবার শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির চ্যালেঞ্জ নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধাক্কার কারণ হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন সেনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রস্তাবের পক্ষে শুধু ডেমোক্র্যাট সদস্যরাই নয়, ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সেনেটরও ভোট দিয়েছেন। ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে ইরান নীতি নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেও মতভেদ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা, কারণ তাঁর দলীয় সমর্থনের ভিত যে আগের মতো অটুট নেই, সেই ইঙ্গিত এতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে সেনেটে পাশ ট্রাম্পের (Donald Trump) ক্ষমতা খর্বের বিল!
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাঁদের দাবি, কংগ্রেসের পূর্ণ অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। সেই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার একটি বিল প্রথমে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হয়। পরে মঙ্গলবার সেনেটেও ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম যুদ্ধসংক্রান্ত এমন একটি প্রস্তাব কংগ্রেসের দুই কক্ষেই অনুমোদন পেল। যদিও আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন এবং ট্রাম্প চাইলে এই বিলে ভেটো দিতে পারেন। তাই প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত।
আরও পড়ুন: ক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে বুধে সোনার দামে বড়সড় পতন, জানুন ২২ ও ২৪ ক্যারেটের লেটেস্ট রেট
এই ভোটাভুটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল চার রিপাবলিকান সেনেটরের অবস্থান। লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র্যান্ড পল দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ মার্কিন জনগণের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করেছে এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের মতে, এই সংঘাত ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল, যার মূল্য এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। একই সময়ে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। বাকিদের বড় অংশ এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় এবং অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
জনমতের এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের উপর জোর দিতে চাইছেন। ফলে ইরান নীতি এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়, বরং আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়েরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। সেনেটে বিলটি পাস হওয়ায় বিরোধীরা নতুন করে শক্তি পেয়েছে এবং ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলিকে আরও বেশি করে প্রশ্নের মুখে ফেলতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: অর্থ দফতরে হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রী! বাজেটের দিন শুভেন্দুর পদক্ষেপে চমক নবান্নে
অন্যদিকে সেনেটের এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নিজে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এই বিলকে “অর্থহীন” এবং “অপ্রয়োজনীয়” বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, ইরানকে তিনি কার্যত কোণঠাসা করে ফেলেছেন এবং তেহরান এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরোধী বিল পাস করা সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি যাঁরা রিপাবলিকান হয়েও তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের “পরাজিত রিপাবলিকান” বলে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, এই সেনেটররা তাঁর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছেন, কিন্তু তিনি কোনওভাবেই নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসবেন না। ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, ইরান ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।













