৩ মাস ধরে নাবালিকাকে বন্দি করে ‘গণধর্ষণ’, পরে বিয়ে! গ্রেফতার তৃণমূল নেতার দুই ছেলে

Updated on:

Updated on:

Trinamool leader's two sons arrested for rape minor girl
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানা এলাকায় ফের নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রায় তিন মাস ধরে এক কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ (Rape) ও জোর করে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের দুই ছেলের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, উদ্ধার করতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় তৃণমূল নেতার ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের (Rape) অভিযোগ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত দুই ভাই। তাঁরা স্থানীয় এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের পুত্র। অভিযোগ, নাবালিকাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়। দিনের পর দিন তাঁকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হয়। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে অভিযুক্তদের এক ভাই পরে লোক দেখানো বিয়ে করে ওই কিশোরীকে। কিন্তু বিয়ের পরেও নির্যাতন থামেনি। অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্যের দুই ছেলের পাশাপাশি তাঁদের বন্ধুরাও ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করত।

‘নির্যাতিতা’র পরিবারের লোকজন পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি গিয়ে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন। তখন তাদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গত তিন মাসে ওই কিশোরী একাধিকবার ওই বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও প্রতিবারই তাঁকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, বহুবার থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে চাইলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর তাঁরা তৃণমূল নেতা ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে সরব হন।

সম্প্রতি কোনওভাবে মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়ি ফেরান পরিবারের লোকজন এবং মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নির্যাতিতার কথায়, ”আমার মা আমাকে একাধিক বার ওই বাড়ি থেকে বার করে আনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার ভাইয়ের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। তাই পরিবার সব জেনেও কিছু করতে পারেনি। এ বার কোনও মতে আমি পালিয়ে আসতে পেরেছি। পুলিশের কাছে অভিযোগও করেছি।”

Trinamool leader's two sons arrested for rape minor girl

আরও পড়ুন : অভিষেকের প্রাক্তন আইনজীবীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক ঋতব্রতর! কী নিয়ে হল আলোচনা?

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার পঞ্চায়েত সদস্যের দুই ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ এবং পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন উঠছে—ক্ষমতাশালীদের আড়ালে নাবালিকাদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?