‘সারা ভারত আমাদের দিকে তাকিয়ে’, জিএসটি বৈঠক নিয়ে আশাবাদী স্বপন দাশগুপ্ত

Published on:

Published on:

Swapan Dasgupta optimistic about GST meeting
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মসূচিও এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই আবহে কলকাতায় জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক আয়োজনকে রাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। সেই বৈঠককে সামনে রেখে বাংলার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের বার্তা দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।

বাংলাকে নিয়ে বড়‌‌ বার্তা স্বপন দাশগুপ্তের (Swapan Dasgupta)

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বাজেটেই বিভিন্ন খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার পর থেকেই বিরোধী মহলের একাংশ জানতে চেয়েছে, এত বড় ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান কীভাবে হবে। এই প্রশ্নের জবাব বিধানসভার অধিবেশনেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, অতীতে রাজ্যের বহু রাজস্ব সরকারি কোষাগারে না গিয়ে অন্যত্র চলে যেত। বিশেষ করে বীরভূমের পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

এই পরিস্থিতিতেই আগামী জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক। সেই বৈঠককে ঘিরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “সারা ভারতবর্ষ আমাদের দিকে দেখছে। তারা দেখছে যে পশ্চিমবঙ্গ এখন একটা নতুন অধ্যায় আরম্ভ করেছে। সবাই সহযোগিতা করতে চায়। আর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক নিয়ে বলব, এটা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে একটা বিরাট সৌভাগ্য। কেন না, অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমি এই বৈঠকের আয়োজক। আমি সবাইকে আনতে চাই। এখন আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যেন আমাদের পুরনো গুরুত্বটা ফেরত পাই। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এটা একটা বড় কনফারেন্স হবে পশ্চিমবঙ্গে।”

অর্থমন্ত্রী জানান, এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন পশ্চিমবঙ্গকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলেই তিনি মনে করছেন। একই সঙ্গে জাতীয় স্তরে রাজ্যের গুরুত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যও রয়েছে সরকারের। এদিন কলকাতার ট্রাম পরিষেবা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন রাসবিহারীর বিধায়ক। তিনি বলেন, “এটা পরিবহণ দফতরের বিষয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের বিধানসভা এলাকায় ট্রামটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাসবিহারীর দিক থেকে দেখতে গেলে আমি একজন বিধায়ক। আমি আমাদের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংকে বলব, এটা নিয়ে একটু সিরিয়াসলি দেখুন। আশা করি, উনি আমার আবেদনে সাড়া দেবেন।”

অর্থমন্ত্রীর কথায়, বিষয়টি পরিবহণ দফতরের আওতায় থাকলেও এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে ট্রাম পরিষেবা বজায় রাখার পক্ষে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবেন। এদিন শিক্ষাক্ষেত্র নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থার কারণে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Swapan Dasgupta optimistic about GST meeting

আরও পড়ুন : পুজোর ভিড় সামলাতে রেলের বিশেষ উদ্যোগ, বাড়ল সামার স্পেশ্যাল ট্রেনের মেয়াদ

সেই কারণেই বহু ছাত্রছাত্রী অন্য রাজ্যে পড়তে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিভিন্ন কারণে আজকে রাজ্যে উচ্চশিক্ষার একটা বদনাম হয়ে গিয়েছে। সেখানে দুর্নীতি, অগোছালো ব্যবস্থা, অনেক কিছুর কারণে পড়ুয়ারা অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিল। আর পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বটাও কমে গিয়েছিল। সেগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। তবে এটা শুধু টাকার ব্যাপার নয়। ক্যাম্পাসের মধ্যে একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যেখানে পড়াশোনার গুরুত্বটা যেন আবার ফিরে আসে।” এখন সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যের বিভিন্ন মহলের।