বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল। দীর্ঘদিন ধরে তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া তাপস এবার প্রকাশ্যে এমন কিছু দাবি করেছেন, যা ঘিরে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর মন্তব্যে উঠে এসেছে তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষের নামও। আর সেই কারণেই নতুন করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
নিয়োগ দুর্নীতিতে (Recruitment Scam) কীভাবে জড়িয়ে সায়নী ?
তৃণমূল কংগ্রেসে গত কয়েক বছরে বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সায়নী ঘোষ। অভিনয়ের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতিতে এসে তিনি দলের যুব সংগঠনের দায়িত্ব সামলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন এবং সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁকে নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে তাঁর নাম টেনে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তাপস মণ্ডল।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গ তুলে তাপসের দাবি, গোটা প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সব জানতেন মমতা। জেনেও চুপ করেছিলেন।”
তাপস মণ্ডলের আরও অভিযোগ, কুন্তল ঘোষের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হত এবং সেই টাকা কালীঘাটের ‘কাকু’র হাতে পৌঁছত।
সায়নী ঘোষকে নিয়েও একাধিক দাবি করেন তাপস মন্ডল। কুন্তল ঘোষের প্রসঙ্গ টেনে তাপসের বক্তব্য, “গোটা রাজ্যে এরকম হাজার কুন্তল পাওয়া যাবে যাঁরা অভিষেকের নামে টাকা তুলেছে। সায়নীর পিছনে অনেক খরচ করতো কুন্তল। কারণ ও তো যুব সম্পাদক, আর সায়নী যুব সভানেত্রী। ওকে তো ফ্ল্যাট, গাড়ি দিয়েছে।”

আরও পড়ুন : সরকারি কর্মীদের জন্য ডাবল ধামাকা! অষ্টম বেতন কমিশনের আগে DA নিয়ে বিরাট আপডেট
তাপস মণ্ডল আরও দাবি করেছেন, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কয়েক দফায় মোট ১৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদে কুন্তল ঘোষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সেই লেনদেনের সমস্ত হিসাব নিজের কাছে সংরক্ষিত ছিল বলেও তাঁর দাবি। প্রসঙ্গত, এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অতীতে সায়নী ঘোষকেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে আর তলব করা হয়নি। অন্যদিকে তাপস মণ্ডলের এই নতুন অভিযোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।













