কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যে সফর বিদেশমন্ত্রীর

Published on:

Published on:

S. Jaishankar to visit Middle East to ensure fuel supplies.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে কিভাবে জ্বালানির দাম আগের মতো স্বাভাবিক করা যায় তার জন্য বিদেশ সফরে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)। ইরান-আমেরিকা সংঘাত আপাতত থেমে গেলেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে বড়সড় চাপ তৈরি করেছিল। এই পরিস্থিতিতে ভারতের (India) জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই রবিবার থেকে পাঁচ দিনের গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম এশিয়া সফর শুরু করছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কাতার, বাহারিন, কুয়েত এবং ওমান সফরের পাশাপাশি পরবর্তী পর্যায়ে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকাতেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যে সফরে এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar):

বিদেশ মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে জয়শঙ্কর কাতার, বাহারিন, কুয়েত এবং ওমানের বিদেশমন্ত্রী-সহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন। বৈঠকগুলিতে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের পর পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানি করা হতো, সেই সরবরাহ আবার দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। একইসঙ্গে এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের অস্থিরতা যাতে জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চাইছে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন: আমেরিকার ২৫০ তম স্বাধীনতা দিবস! ১৪০ কোটি ভারতীয়ের তরফে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানালেন মোদী

এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ভারতের উদ্বেগ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ চলাকালীন এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়ে যায়। সূত্রের খবর, জয়শঙ্কর তাঁর বৈঠকগুলিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে হরমুজ প্রণালী সচল ও নিরাপদ রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানাবেন। কারণ ভারতের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ এখনও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করে তোলাই এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ার সফর শেষ হওয়ার পর বিদেশমন্ত্রী (S. Jaishankar) ১৩ জুলাই নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অস্থায়ী সদস্যপদ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এরপর ১৪ জুলাই তিনি ব্রাসেলসে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য ও প্রযুক্তি কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি আমেরিকা সফরেরও সূচি রয়েছে তাঁর। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি—এই চারটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই জয়শঙ্করের বিদেশ সফরের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকগুলিকে ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

S Jaishankar to visit Middle East to ensure fuel supplies.

আরও পড়ুন: PF কাটার নিয়মে বড় বদল! জুলাই থেকেই বাড়তে পারে হাতে পাওয়া বেতন, জানুন নতুন নিয়ম

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতির মধ্যেই শুরু হচ্ছে বিদেশমন্ত্রীর (S. Jaishankar) এই সফর। একদিকে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ আরও গভীর হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও জ্বালানি-ভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি। সেই কারণেই সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ভারত কোনও পক্ষ না নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখে। যুদ্ধ আপাতত থেমে যাওয়ার পর এবার সেই কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেদিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।