বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে ফের নির্বাচন ! অবশেষে সামনে এল রাজ্যসভার উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন সাংসদের পদত্যাগে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা আসনগুলিতে আগামী ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
নির্বাচনের দিন ঘোষণা করল কমিশন (Election Commission)
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করে। শাসকদলের অন্দরে একের পর এক অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। প্রথমে বিধায়কদের একাংশ বিদ্রোহের পথে হাঁটেন। পরে সেই প্রভাব পৌঁছে যায় লোকসভাতেও। একাধিক সাংসদ একজোট হয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে জানান। তবে দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে তাঁরা পরবর্তীতে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া নামে একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যসভাতেও বড়সড় ধাক্কা খায় তৃণমূল। দলের বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায় নিজের সাংসদ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। যদিও তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল, তবুও দলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর গত ৮ জুন তিনি ইস্তফা দেন। এরপর একই পথে হাঁটেন সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। তাঁদের সাংসদ হিসেবে মেয়াদ যথাক্রমে ২০৩০ এবং ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল। শুধু রাজ্যসভার সদস্যপদই নয়, তাঁরা দল ছাড়ার ঘোষণাও করেন। ফলে একসঙ্গে তিনটি আসন শূন্য হয়ে যায়। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, কবে হবে এই আসনগুলির উপনির্বাচন।
সেই জল্পনারই অবসান ঘটিয়ে সোমবার নির্বাচনী সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৫ জুলাই হবে মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি। প্রার্থীরা চাইলে ১৭ জুলাই পর্যন্ত তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। কমিশনের সূচি অনুসারে, ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর সেদিনই বিকেল ৫টা থেকে গণনা শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ করতে হবে।

আরও পড়ুন : সবাই নন, কোন পেনশনাররা ৫০% বকেয়া DA পাচ্ছেন? জানালেন সরকারি কর্মচারীদের নেতা
রাজ্যসভার এই তিনটি শূন্য আসনে কারা প্রার্থী হন এবং শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল কতটা সুবিধা পায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উপনির্বাচন শুধুমাত্র শূন্য পদ পূরণের প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণেরও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করতে চলেছে।













