বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২১ জুলাইয়ের পর ২৮ অগাস্ট। শহিদ দিবসের সভার পর তৃণমূল ছাত্র পরিষদ তথা টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি (TMCP Foundation Day) নিয়েও দুই তৃণমূলের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছিল। দুই শিবিরই মেয়ো রোডে সভা করতে চেয়েছিল। সেই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি। এবার দুই তৃণমূলকেই সভার অনুমতি দিয়ে বিকল্প দুই জায়গা বলে দিল উচ্চ আদালত।
মেয়ো রোডে সভা করবে না কোনও শিবির | (Calcutta High Court)
মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলা উঠেছিল। সব পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর তিনি বলেন, আগামী ২৮ অগাস্ট কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ক্যাথিড্রাল রোডে সভা করবে। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী শিবিরের কর্মসূচি হবে ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে।
আরও পড়ুনঃ DA চর্চার মাঝেই বোনাস নিয়ে সুখবর! সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট ঘোষণা রাজ্যের
এদিনের শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, “আমি আসল, ডুপ্লিকেট তৃণমূল এসবের মধ্যে যাচ্ছি না। কে আসল তাঁকে খোঁজার জন্য এই মামলা হয়নি। আপনারা কি একসঙ্গে মেয়ো রোডে অনুষ্ঠান করতে আগ্রহী?”
জবাবে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “না, আমরা একসঙ্গে করছি না। রানি রাসমণিতে দেওয়া হোক।“ উত্তর শুনে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, তাহলে কাউকে মেয়ো রোডে সভা করতে দেওয়া হবে না। এরপর দুই তৃণমূল শিবিরের জন্য দু’টি বিকল্প জায়গা বলে দেয় আদালত। পাশাপাশি বেশ কিছু শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশ, দুই শিবিরের সভাতেই ১৫০০ জনের বেশি সমাগম করা যাবে না। দুপুর ১২টা থেকে ৩টে অবধি সভা করা যাবে। শুনানির এক পর্যায়ে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের উদ্দেশে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “একসঙ্গে অনুষ্ঠান করুন। ব্রিগেডে ১০ হাজার জমায়েতের অনুমতি দেব।“

এছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশ, ২৮ অগাস্টের এই কর্মসূচির জন্য বুধবারের মধ্যে তৃণমূলের দুই শিবিরকে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নম্বর পুলিশের কাছে জমা করতে হবে। কর্মসূচির সময় যান চলাচল যাতে ব্যাহত না হয় সেটা এই স্বেচ্ছাসেবকদের নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গেই এই কর্মসূচির জন্য পুলিশকেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলেছে আদালত।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন প্রত্যেক বছর মেয়ো রোডেই সভা করত তৃণমূল। তবে পালাবদলের পর দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। এই বছর কে মেয়ো রোডে সভা করবে এই নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছিল। শেষমেষ কাউকেই সেখানে সভা করার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট।













