বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিহারের (Bihar) সহরসা জেলায় একটি বিয়েবাড়িতে খাবারের মেনু ঘিরে এমন এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে, যা মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের অনুষ্ঠানকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত করেছে। অভিযোগ, বিয়ের ভোজে খাসির মাংস বা মাটন পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অতিথিদের সামনে পরিবেশন করা হয় চিকেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি, মারধর এবং লাঠালাঠির ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে বর-সহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খাসির মাংস না পেয়ে তাণ্ডব! বিহারে (Bihar) বিয়ের ভোজ ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের (Bihar) সহরসা জেলার সিমরী বখতিয়ারপুর এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানকার বাসিন্দা মহম্মদ আনোয়ারের ছেলে মহম্মদ আবদুল্লার সঙ্গে মহম্মদ জাভেদের মেয়ের বিয়ে ছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর প্রায় ৩টের সময় সমস্ত ধর্মীয় নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে নিকাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বরযাত্রীরা ভোজে অংশ নিতে বসেন। তখনই খাবার পরিবেশন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বরপক্ষের অভিযোগ, আগে থেকেই মেনুতে মাটন রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে মাটনের পরিবর্তে চিকেন পরিবেশন করা হলে তাঁরা আপত্তি জানান। সেই আপত্তিকে কেন্দ্র করেই দুই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ কারণ! আচমকাই iPhone-এর এই মডেলটি কেনার জন্য হুড়োহুড়ি ক্রেতাদের মধ্যে
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে শুধুই বাকবিতণ্ডা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ, কনেপক্ষের কয়েকজন সদস্য লাঠিসোঁটা নিয়ে বরপক্ষের উপর হামলা চালান। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক মারামারি শুরু হয়। বিয়ের প্যান্ডেলে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর হয় এবং চারদিকে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ভাঙচুরের পাশাপাশি এক যুবককে হাতে তলোয়ার নিয়ে ছুটে যেতে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কয়েকজন মহিলা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও উত্তেজিত দুই পক্ষের কেউই তাঁদের কথা শোনেননি। ফলে বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে পরিণত হয়।
এই সংঘর্ষে বর-সহ মোট ১২ জন গুরুতর জখম হন। তাঁদের সিমরী বখতিয়ারপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের চিকিৎসা করছেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: সিম-টাওয়ার ছাড়াই নিশ্চিন্তে বলা যাবে কথা, BSNL বাজারে নিয়ে এল স্যাটেলাইট ফোন, দাম কত?
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার মতো বিষয়ও কখনও কখনও বড় ধরনের সংঘর্ষের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সামাজিক অনুষ্ঠানে পারস্পরিক সংযম, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার গুরুত্ব এই ঘটনার পর নতুন করে সামনে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনও সকলকে গুজব বা উত্তেজনায় প্ররোচিত না হয়ে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে। বিয়ের মতো একটি আনন্দের অনুষ্ঠান যেভাবে সহিংসতায় পরিণত হল, তা শুধু সংশ্লিষ্ট দুই পরিবারের জন্যই নয়, গোটা এলাকার মানুষের কাছেও অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে (Bihar)।













