জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ! WhatsApp-Telegram-এর জন্য কড়া নিয়মের ভাবনা কেন্দ্রের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে (WhatsApp-Telegram) ফোন নম্বর গোপন রেখে শুধুমাত্র ‘ইউজারনেম’ (Username Feature) ব্যবহার করে চ্যাট করার সুবিধা ভবিষ্যতে আগের মতো সহজ নাও থাকতে পারে। এই ফিচারকে ঘিরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ এবং জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামকে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নোটিসের জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। সোমবার ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস. কৃষ্ণন জানিয়েছেন, গত সপ্তাহেই হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে উত্তর এসেছে এবং সেই জবাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারি সূত্রের খবর, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ নয়, বরং সব ধরনের মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের জন্যই ‘ইউজারনেম’ ফিচার ব্যবহারে এক অভিন্ন বা ‘ইউনিফর্ম’ নিরাপত্তা নীতি আনার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে।

WhatsApp-Telegram-এর জন্য কড়া নিয়মের ভাবনা কেন্দ্রের

বর্তমানে টেলিগ্রামে (WhatsApp-Telegram) দীর্ঘদিন ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর প্রকাশ না করেও যোগাযোগ করার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপও ভারতে একই ধরনের ফিচার চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত ফোন নম্বর গোপন রেখে নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, যা একদিকে গোপনীয়তা রক্ষায় সহায়ক হলেও অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ, ফোন নম্বর দৃশ্যমান না থাকলে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা বা তদন্তের স্বার্থে তার গতিবিধি অনুসরণ করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার।

আরও পড়ুন: বালিশ থেকে কম্বল! ৪ বছরে চুরি ট্রেনের ১.২৭ কোটি শয্যাসামগ্রী, চমকে দেবে ক্ষতির পরিমাণ

কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই ফিচারকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে পরিচয় চুরি, ফিশিং, ভুয়ো বিনিয়োগের প্রলোভন, অনলাইন আর্থিক প্রতারণা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো অপরাধে ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অপব্যবহার হতে পারে। ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অপরাধীরা পুলিশ, সিবিআই, আয়কর দফতর বা অন্য সরকারি সংস্থার পরিচয় দিয়ে ভিডিও কল বা মেসেজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ বাড়লে এই ধরনের অপরাধীদের খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

এই কারণেই কেন্দ্র চায়, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাক। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে এমন একটি নীতিমালা তৈরির চেষ্টা চলছে, যাতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে, আবার প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও দ্রুত তদন্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভবিষ্যতের নিয়ম তৈরির সময় এই দুই দিকই বিবেচনায় রাখা হবে।

Central govt considers strict rules for WhatsApp-Telegram.

আরও পড়ুন: ১৩ জন বিশ্বনেতার মৃত্যু পরোয়ানা জারি ইরানের! ট্রাম্প-মেলোনি সহ তালিকায় রয়েছেন আর কারা?

এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp-Telegram) দেওয়া ব্যাখ্যা এবং টেলিগ্রাম-সহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মতামত পর্যালোচনা করার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। তবে ইঙ্গিত স্পষ্ট,  শুধুমাত্র একটি অ্যাপ নয়, বরং ভারতে পরিচালিত সব মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের জন্যই ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারে একই ধরনের নিরাপত্তা বিধি কার্যকর হতে পারে। প্রযুক্তির সুবিধা যাতে বজায় থাকে এবং একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই নতুন নীতিমালা তৈরির পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।