বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। তারই মধ্যে ইরানের (Iran) হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর ইরান প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলে জানায়, হামলার আগে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলিকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে সন্দেহজনকভাবে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণেই ওই দুই জাহাজকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থানে মার্কিন হামলার জেরে গোটা অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।
হরমুজে (Strait of Hormuz) ভারতীয় জাহাজে হামলা নিয়ে এবার বিবৃতি দিল ইরান:
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ওমান উপকূলের কাছে ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ নামে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় মোট আটজন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ছয়জনই ভারতীয় নাবিক। ‘মোম্বাসা’ জাহাজে কর্মরত এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আবু ধাবি। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানানো হয়েছে। হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের হামলা বিশ্ব বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলেও মত প্রকাশ করেছে তারা (Strait of Hormuz)।
আরও পড়ুন: বকেয়া DA-র বিজ্ঞপ্তি দিলেও মেলেনি টাকা! বিস্ফোরক অভিযোগে সরব সরকারি কর্মীদের নেতা
অন্যদিকে, ইরানের সরকারি বিবৃতিতে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি। তেহরানের দাবি, জাহাজ দুটি স্বাভাবিক নৌপথ ব্যবহার না করে বিপজ্জনকভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছিল এবং তাদের ন্যাভিগেশন সিস্টেমও বন্ধ ছিল। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বক্তব্য, একাধিকবার রেডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করা হলেও জাহাজগুলি নির্দেশ অমান্য করে এগিয়ে যায়। সেই কারণেই নিরাপত্তা রক্ষার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইরান অভিযোগ করেছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে ট্রাম্প প্রশাসন পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের মতে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং নির্দেশনাই ওই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইরান ও আমেরিকার চলমান সংঘাত। ইরানের প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত কয়েক দিনে একাধিক পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে যে কোনও সামরিক সংঘর্ষের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে জোড়া ঘূর্ণাবর্তের ফোঁস! দুপুরের পর কলকাতা-সহ ১০ জেলায় তুমুল বৃষ্টি, আজকের আবহাওয়ার খবর
প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগেও ওমান উপকূলেই একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতেই তাদের বাহিনী বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। এবার নতুন করে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, আহত ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক স্তরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের (Strait of Hormuz)।













