চাকরি যাবে আর এক মাস পর! মানসিক অবসাদে চরম সিদ্ধান্ত ‘যোগ্য’ শিক্ষিকার

Published on:

Published on:

teacher takes drastic step amidst Ssc recruitment scam.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) চাকরি হারানোর পর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। আদালতের নির্দেশে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ বহাল থাকলেও, এরপর কী হবে সেই দুশ্চিন্তাই ক্রমশ গ্রাস করেছিল ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলের ‘যোগ্য চাকরিহারা’ শিক্ষিকা ঈপ্সিতা দাস মহাপাত্রকে। শেষ পর্যন্ত সেই মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তিনি।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা (SSC Recruitment Scam) কাড়ল প্রাণ

২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলার শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ঈপ্সিতা। শিক্ষকতা ছিল তাঁর পেশা এবং পরিচয়ের অন্যতম বড় অংশ। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের রায়ে যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়, তাঁদের মধ্যেই ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, চাকরি বাতিলের পর নতুন করে এসএলএসটি পরীক্ষার ঘোষণা হলেও সেখানে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি ঈপ্সিতা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এরপর আর্থিক নিরাপত্তা, পেশাগত ভবিষ্যৎ এবং সংসারের দায়িত্ব নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগে ভুগছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরু হয়। তবে অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে ঈপ্সিতার পরিবার। পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’। সংগঠনের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চাকরি হারানোর পর দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই ধরনের মৃত্যু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের এসএলএসটি-র যোগ্য ও নির্দোষ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুনর্বহালের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে তাঁদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য জরুরি মানসিক সহায়তা ও মানবিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রয়াত শিক্ষিকার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

teacher takes drastic step amidst Ssc recruitment scam.

 

আরও পড়ুন : ৩২ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা! ২১ জুলাইয়ের আমন্ত্রণ পেল না শহীদ পরিবার

আন্দোলনকারী চাকরিহারা শিক্ষক মেহেবুব মণ্ডল বলেন, “আমরা আবেদন রাখছি ২০১৬ সালের চাকরি হারা নিষ্পাপ নিরপরাধ শিক্ষক শিক্ষিকেদের ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা প্রয়াস সরকারের হাতে রয়েছে, ফিরিয়ে আনার যা যা পথ তাদের হাতে রয়েছে সেগুলো তারা অ্যাপ্লাই করুক এবং আমাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক। এবং যে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকা এই দুর্বিষহ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বা মারা গিয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতিও যাতে সরকার দৃষ্টি দেন সেই অনুরোধ সেই আবেদন সরকারের কাছে আমাদের পক্ষ থেকে থাকল।” ঈপ্সিতা দাস মহাপাত্রের মৃত্যু নতুন করে সামনে এনে দিল চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানসিক অবস্থার কঠিন বাস্তব। আন্দোলনকারীদের মতে, দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দ্রুত সমাধানের পথে না এগোলে আরও অনেক পরিবার একই ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে।