ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে অনাথ আশ্রমে পড়াশোনা! অভাবকে জয় করে IAS অফিসার হয়ে নজির আব্দুলের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাফল্যের গল্প (Success Story) মানেই যে সব সময় বড় শহর, ব্যয়বহুল কোচিং বা আর্থিক স্বচ্ছলতার গল্প হবে, তা নয়। অনেক সময় কঠিন বাস্তব, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং নিরলস পরিশ্রমই একজন মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। কেরলের বি. আব্দুল নাসারের জীবন সেই সত্যেরই উজ্জ্বল উদাহরণ। শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে, ছোটবেলাতেই হারিয়েছেন বাবাকে, সংসারের দায়ে একাধিক ছোটখাটো কাজও করতে হয়েছে। অথচ সেই মানুষই আজ ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবার (IAS) একজন সম্মানিত কর্মকর্তা। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় আজ অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

আব্দুল নাসারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

কেরলের কান্নুর জেলার থালাসেরির বাসিন্দা আব্দুল নাসারের জীবনে বড় ধাক্কা আসে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। বাবার মৃত্যুতে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের উপর। গৃহকর্মীর কাজ করে কোনওমতে সংসার চালাতেন তিনি। আর্থিক অনটন এতটাই প্রকট ছিল যে নাসার এবং তাঁর ভাইবোনদের টানা ১৩ বছর অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করতে হয়। সংসারের হাল ফেরানোর লড়াইয়ে খুব অল্প বয়সেই তাঁকেও নামতে হয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে হোটেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে খবরের কাগজ বিলি, টিউশন পড়ানো এবং ফোন অপারেটর হিসেবেও কাজ করেছেন। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি পড়াশোনাকে কখনও অবহেলা করেননি। বরং প্রতিটি কাজকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সোপান হিসেবে দেখেছিলেন (Success Story)।

আরও পড়ুন: শিক্ষা-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে ভারতীয়দের অবদান! ১৫ অগাস্টকে ‘ইন্ডিয়া ডে’ ঘোষণা আমেরিকার অঙ্গরাজ্যের

অধ্যবসায়ের সেই পথ তাঁকে ধীরে ধীরে সরকারি চাকরির দিকে নিয়ে যায়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার পর ১৯৯৪ সালে তিনি কেরল স্বাস্থ্য দফতরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ যাত্রা। নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং সৎ কাজের জন্য তিনি ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি পেতে থাকেন। অবশেষে ২০০৬ সালে তিনি কেরল স্টেট সিভিল সার্ভিসে ডেপুটি কালেক্টর পদে নিযুক্ত হন। প্রশাসনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে তাঁকে কেরলের সেরা ডেপুটি কালেক্টর সম্মানেও ভূষিত করা হয়, যা তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

অনেকেরই ধারণা, IAS হওয়ার একমাত্র উপায় হল UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। কিন্তু আব্দুল নাসারের জীবন সেই ধারণার একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। তিনি সরাসরি UPSC পরীক্ষার মাধ্যমে IAS হননি। রাজ্য সিভিল সার্ভিসে দীর্ঘদিনের অসাধারণ কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে তাঁকে IAS পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মূল্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং বিকল্প পথেও দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পরিষেবায় পৌঁছানো সম্ভব।

Success Story of Abdul Nasar will surprise you.

আরও পড়ুন: গাড়ির ইন্স্যুরেন্স না থাকলে মিলবে না পেট্রোল-ডিজেল? কেন্দ্রকে ভাবনাচিন্তার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের

আজ বি. আব্দুল নাসারের জীবন শুধু একটি সাফল্যের কাহিনি (Success Story) নয়, বরং সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অনাথ আশ্রমে বেড়ে ওঠা, হোটেলে কাজ করা কিংবা খবরের কাগজ বিলি করা—জীবনের কোনও কঠিন অধ্যায়ই তাঁকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বরং প্রতিটি প্রতিকূলতাকে তিনি শক্তিতে পরিণত করেছেন। তাঁর গল্প আজ প্রমাণ করে, জন্মপরিস্থিতি নয়, মানুষের মানসিক শক্তি, পরিশ্রম এবং নিজের উপর অটল বিশ্বাসই ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে তিনি তাই শুধু একজন IAS অফিসার নন, বরং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।