বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চোখের চিকিৎসার জন্য তৃণমূল সাংসদকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার অভিষেকের আবেদন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, চিকিৎসার খাতিরে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশ যেতে পারবেন তিনি।
সুপ্রিম-স্বস্তি পেলেন অভিষেক | (Supreme Court)
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি ভি মোহানা ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ বেশ কয়েকটি শর্ত বেঁধে অভিষেকের আবেদন মঞ্জুর করেছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, তৃণমূল সাংসদকে তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশযাত্রা করতে হবে। সেই সঙ্গেই তাঁর সম্পূর্ণ ভ্রমণসূচি ও বিদেশে কোথায় থাকবেন সেই ঠিকানা তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ হাতে আর ৫ দিন সময়! বাড়ি বসেই করুন এলপিজি ই-কেওয়াইসি, সহজ পদ্ধতি জানুন
তবে অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অভিষেকের ভ্রমণসূচির গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। কিছুতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না।
এদিকে আজকের শুনানিতে রাজ্যের তরফে এএসজি এস ভি রাজু তৃণমূল সাংসদের বিদেশযাত্রার আবেদনের জোরালো বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে অভিষেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। সেই কারণে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে দেশে নাও ফিরতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। যদিও সেই যুক্তি মানতে চায়নি আদালত।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি স্পষ্ট বলেন, প্রত্যেকের বিদেশ যাওয়ার ও নিজের পছন্দ মতো চিকিৎসা পরিষেবা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। একইসঙ্গে আদালত মনে করিয়ে দেয়, মূল মামলাটি শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী ভাষণের সঙ্গেই সম্পর্কিত।
অন্যদিকে অভিষেকের আইনজীবী আদালতে বলেন, অপারেশন সিঁদুর আউটরিচ কর্মসূচির জন্য তাঁর মক্কেলকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেটি ব্যবহার করেই তিনি সফর করবেন। ফলে আন্তর্জাতিক দূতাবাসগুলি সহজেই গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারবে, যা পালানোর আশঙ্কা দূর করে।
পাশাপাশি অভিষেকের আইনজীবী বলেন, অভিষেক একজন বর্তমান সাংসদ, একটি সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক। এমনকি তাঁর পরিবারও দেশেই থাকছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে পালাবদলের পরেই তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা রুজু করা হয়েছে।

পাল্টা এএসজি কটাক্ষ করে বলেন, পূর্বতন সরকারের সেই সাহস ছিল না। পাশাপাশি সওয়াল করেন, চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেকের আদৌ বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন ছিল কিনা তা যাচাই করতে গঠিত চিকিৎসকমণ্ডলীর সামনে তাঁর হাজিরা দেওয়া উচিত ছিল।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রচারের সময় একটি বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় অভিষেকের গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। সেই মামলাতেই বড় জয় পেলেন তিনি।













