বাবার দেহাবশেষ দেশে ফেরাতে চান নেতাজি-কন্যা! সুপ্রিম কোর্টে উঠল ৮০ বছরের পুরনো রহস্য

Published on:

Published on:

Netaji's daughter files petition in Supreme Court to repatriate father's ashes
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর দেহাবশেষ দেশে ফেরানো নিয়ে আইনি পদক্ষেপ শুরু হল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত নেতাজির ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফিরিয়ে এনে তাঁর শেষকৃত্য করার আবেদন জানিয়েছেন নেতাজি-কন্যা অনিতা বসু পাফ।

কী জানালো সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ?

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। অনিতা বসু পাফের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর বক্তব্য, জাপানে থাকা ওই চিতাভস্ম দেশে এনে নেতাজির শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তাঁর মেয়ে। আবেদনটি শুনে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে নোটিস জারি করেছে আদালত।

নেতাজির শেষ পরিণতি নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইওয়ানের তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছিল—দীর্ঘদিন ধরে এই তত্ত্বই প্রচলিত। কিন্তু নেতাজির মৃত্যু নিয়ে গবেষণা করা একাধিক ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞ সেই দাবি মানতে নারাজ। ফলে প্রায় আট দশক পরেও এই রহস্যের সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর নেতাজির অন্তর্ধান ও মৃত্যুর সত্যতা যাচাই করতে একাধিক তদন্ত কমিটি তৈরি হয়েছিল। শাহনওয়াজ কমিটি এবং বিচারপতি জি ডি খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর তত্ত্বকে সমর্থন করে। তাঁদের অনুসন্ধানে তাইপেইয়ের দুর্ঘটনাকেই নেতাজির মৃত্যুর কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে বিচারপতি মুখার্জি কমিশনের রিপোর্টে ভিন্ন ছবি উঠে আসে। ২০০৬ সালের মে মাসে জমা দেওয়া সেই রিপোর্টে বলা হয়, ১৯৪৫ সালের বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি।

এমনকি, রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত অস্থিও নেতাজির নয় বলে মত দেওয়া হয়েছিল। তবে তৎকালীন মনমোহন সিং সরকার ওই রিপোর্ট গ্রহণ করেনি। রেনকোজি মন্দিরে থাকা অস্থির উৎস নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়ে থাকলে তাঁর দেহ সেখানেই দাহ করা হয়েছিল এবং পরে সেই দেহাবশেষ জাপানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে টোকিওর ওই মন্দিরেই তা সংরক্ষিত রয়েছে।

Netaji's daughter files petition in Supreme Court to repatriate father's ashes

আরও পড়ুন : এবার প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর, সিলেবাসে বিস্তারিত ক্ষুদিরাম! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

এই পরিস্থিতিতে নেতাজির কন্যার নতুন আবেদন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, জাপানে থাকা ওই চিতাভস্ম ভারতে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হোক। তবে সেই অস্থি আদৌ নেতাজির কি না, তা নিয়ে যে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানিতে সেই প্রশ্নও সামনে আসতে পারে। এখন কেন্দ্রীয় সরকার এই আবেদনের বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের নেতাজি-রহস্যে এই আইনি আবেদন নতুন কোনও দিক খুলে দেয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।