বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে (India) বৈদ্যুতিক যানবাহনের (Electric Vehicles) ব্যবহার ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে। পেট্রল-ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির একাধিক উদ্যোগের প্রভাবও এবার সরকারি পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। ভারী শিল্প মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৭ অগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ৬৭,৬৫৭টি বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ১,১৩৯টি রয়েছে ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশনের চার্জার। অর্থাৎ, চার্জ শেষ হয়ে গেলে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চার্জে রেখে অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে খালি ব্যাটারির বদলে সম্পূর্ণ চার্জ থাকা ব্যাটারি নেওয়ার সুযোগও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
দেশজুড়ে বসানো হল ৬৭,০০০-এরও বেশি EV (Electric Vehicles) চার্জার
শুধু চার্জিং পরিকাঠামো নয়, বৈদ্যুতিক গাড়ি (Electric Vehicles) কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উৎসাহ বাড়াতে কর ও নীতিগত সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং সেগুলির চার্জার বা চার্জিং স্টেশনের উপর জিএসটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের তরফে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য সবুজ রঙের লাইসেন্স প্লেট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের বৈদ্যুতিক যানবাহনকে পারমিটের বাধ্যবাধকতা থেকেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, শুধু ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রেই নয়, দেশের সামগ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাতেই বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার আরও বাড়ানো।
আরও পড়ুন: ‘বাস্তবতা পরিবর্তন করা যায় না’, অরুণাচলের ২৭ টি এলাকার নামবদলের প্রসঙ্গে চিনকে স্পষ্ট বার্তা ভারতের
সরকারি সহায়তায় ইভি বিক্রির ছবিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, FAME India প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার বৈদ্যুতিক যানবাহনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে FAME India Phase-II-এর আওতায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২০০টি বৈদ্যুতিক দুই, তিন ও চার চাকার গাড়ি বিক্রি হয়েছে। উল্লেখ্য, FAME-II প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ বছর চলেছিল। এই পর্যায়ের জন্য মোট ১১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি ই-বাস এবং পাবলিক ইভি চার্জিং স্টেশন তৈরিতেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
গণপরিবহণেও বৈদ্যুতিক যানবাহনের উপস্থিতি বাড়ছে। মন্ত্রকের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত FAME প্রকল্পের আওতায় দেশে ৫,২৯৯টি বৈদ্যুতিক বাস মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি PM-eBus Seva–Payment Security Mechanism বা PSM প্রকল্পের অধীনে ১০ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত ২৭,৫৫৫টি বৈদ্যুতিক বাস অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে শহরাঞ্চলে গণপরিবহণের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে প্রচলিত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত বাসের ব্যবহার বাড়ানোর পথ তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তিগত যানবাহনের পাশাপাশি গণপরিবহণে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেনের বিবাদ মেটাবেন ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি! চন্দ্রচূড়ের ওপরেই ভরসা মস্কোর
এদিকে, বৈদ্যুতিক যানবাহনের (Electric Vehicles) প্রসারে আরও কয়েকটি সরকারি প্রকল্পের প্রভাবও সামনে এসেছে। মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, PM E-DRIVE প্রকল্পের আওতায় ২৬.৫ লক্ষ বৈদ্যুতিক যানবাহন বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, অটোমোবাইল ও অটো-কম্পোনেন্টের জন্য Production Linked Incentive বা PLI প্রকল্পের অধীনে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২১.৩ লক্ষ বৈদ্যুতিক যান বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে চার্জিং পরিকাঠামো তৈরি, কর ছাড়, আর্থিক প্রণোদনা এবং ই-বাসের ব্যবহার—একাধিক দিক থেকে ইভি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। সরকারি পরিসংখ্যানও বলছে, ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের জায়গা ক্রমশই বড় হচ্ছে।













