বাংলাহান্ট ডেস্ক: কর্নাটকে (Karnataka) গুটখা ও তামাকযুক্ত পানমশলার (Gutkha-Pan Masala) বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এক বছরের জন্য গুটখা এবং নিকোটিন বা তামাকযুক্ত পানমশলার উৎপাদন, বিক্রি, মজুত ও পরিবহণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু দোকানে বিক্রিই নয়, এই ধরনের পণ্য কোথাও মজুত রাখা বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকছে। রাজ্যের কমিশনার অব ফুড সেফটির তরফে জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুধবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
ভারতের এই রাজ্যে নিষিদ্ধ গুটখা ও তামাক যুক্ত পান (Gutkha- Pan Masala) মশলা, কার্যকর নির্দেশিকা
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ হিসেবে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকেই তুলে ধরা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গুটখা এবং তামাক বা নিকোটিনযুক্ত পানমশলার নিয়মিত ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। সেই কারণেই রাজ্যে এই পণ্যগুলির ব্যবহার ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। ২০০৬ সালের Food Safety and Standards আইনের ৩০ নম্বর ধারার আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আপাতত এক বছরের জন্য কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে (Gutkha-Pan Masala)।
আরও পড়ুন:ভারতে হু হু করে বিক্রি হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ি! দেশজুড়ে বসানো হল ৬৭,০০০-এরও বেশি EV চার্জার
নতুন নিয়মে শুধু নির্দিষ্ট কোনও ব্র্যান্ড বা বিশেষ ধরনের প্যাকেটজাত পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। প্যাকেটবন্দি কিংবা খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া গুটখা ও তামাকযুক্ত পানমশলা—দুই ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এমনকি যেসব উপাদান আলাদা আলাদা প্যাকেটে বিক্রি করা হয় এবং পরে গ্রাহকরা সেগুলি পানমশলার সঙ্গে মিশিয়ে খান, সেগুলিও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। ফলে দোকান বা অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্রে এই ধরনের পণ্য রাখা বা বিক্রি করা কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সহজলভ্যতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতাও বাড়বে।
পানমশলা নিয়ে শুধু কর্নাটকেই নয়, প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় স্তরে কড়া নিয়ম রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক FSSAI পানমশলা প্যাক করার ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, প্লাস্টিক ল্যামিনেট এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অর্থাৎ পানমশলার প্যাকেট তৈরিতে পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর বা নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা যাবে না। এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুরনো দিনের মতো কৌটাতেও পানমশলা বিক্রি করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘বাস্তবতা পরিবর্তন করা যায় না’, অরুণাচলের ২৭ টি এলাকার নামবদলের প্রসঙ্গে চিনকে স্পষ্ট বার্তা ভারতের
কর্নাটক সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ফলে রাজ্যে গুটখা ও তামাকযুক্ত পানমশলার (Gutkha-Pan Masala) ব্যবসার উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে। একইসঙ্গে প্রকাশ্য জায়গায় গুটখার পিক ফেলা এবং তার ফলে তৈরি হওয়া নোংরা পরিবেশ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই সমস্যার দিকটিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর ভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রশাসনের নজরদারি এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার উপরই নির্ভর করবে এক বছরের এই নিষেধাজ্ঞার সাফল্য।













