বাংলাহান্ট ডেস্ক: জুলাই ২০২৬-এ দেশের মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Funds) ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হল নতুন নজির। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং ধারাবাহিক নেট ইনফ্লোর জেরে মিউচুয়াল ফান্ডের নেট অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট বা নেট এইউএম পৌঁছে গেল সর্বকালীন সর্বোচ্চ ৮৫.৭৫ লক্ষ কোটি টাকায়। জিইপিএল ক্যাপিটালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, জুনের তুলনায় জুলাইয়ে নেট ইনফ্লো প্রায় ৪.৩০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু এক মাসের হিসাবেই নয়, গত এক বছরেও মিউচুয়াল ফান্ডের নেট এইউএম প্রায় ১৩.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বাজারের ওঠানামা সত্ত্বেও মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
জুলাইয়ে Mutual Funds-এ নতুন ইতিহাস, বিপুল বিনিয়োগের জেরে ভাঙল সমস্ত রেকর্ড!
বিনিয়োগকারীদের ধরন বিশ্লেষণ করলেও একটি উল্লেখযোগ্য ছবি সামনে এসেছে। দেশের মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Funds) সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে কর্পোরেট সংস্থাগুলির হাতে। মোট সম্পদের প্রায় ৩৭.১৭ শতাংশ তাদের দখলে। এর পরেই রয়েছেন উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বা HNI-রা, যাঁদের অংশ প্রায় ৩৩.৮৩ শতাংশ। খুচরো বা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির অংশ প্রায় ১.৯২ শতাংশ এবং বিদেশি পোর্টফোলিও ও বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ মাত্র ০.০৭ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরাও এই বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
আরও পড়ুন: বাস পরিষেবায় আধুনিকীকরণ! আসছে স্মার্ট শেল্টার থেকে ই-চার্জিং, কী পরিকল্পনা সরকারের?
অ্যাসেট ক্লাসের দিক থেকে দেখলে ইক্যুইটি এবং ব্যালান্সড ফান্ডই বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দের তালিকায় রয়েছে। মোট মিউচুয়াল ফান্ড সম্পদের প্রায় ৬১.০৬ শতাংশ এই দুই ধরনের ফান্ডে রয়েছে। এর পর রয়েছে ETF এবং Fund of Funds, যাদের সম্মিলিত অংশ প্রায় ১৪.০১ শতাংশ। লিকুইড ও মানি মার্কেট ফান্ডের অংশ প্রায় ১৩.৩৭ শতাংশ। আর লিকুইড ও মানি মার্কেট ফান্ড বাদ দিলে অন্যান্য ডেট ফান্ডের অংশ প্রায় ১১.৫৭ শতাংশ। ফলে স্পষ্ট, তুলনামূলক ভাবে বাজার-নির্ভর বিনিয়োগের দিকেই একটা বড় অংশের ঝোঁক রয়েছে।
জুলাই মাসে শুধু সামগ্রিক সম্পদই বাড়েনি, ইক্যুইটি ফান্ডেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ঢুকেছে। এই বিভাগে মোট ২৪,৬৯৭ কোটি টাকার নিট বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে স্মল-ক্যাপ ফান্ডে—প্রায় ৭,৭৬৮ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে মিড-ক্যাপ ফান্ড, যেখানে ৬,১৯২ কোটি টাকার নিট বৃদ্ধি হয়েছে। ফ্লেক্সিক্যাপ ফান্ডে এসেছে ৪,৭০৯ কোটি টাকা, লার্জ অ্যান্ড মিড-ক্যাপ ফান্ডে ৩,৪২৫ কোটি এবং মাল্টি-ক্যাপ ফান্ডে ৩,২২৭ কোটি টাকার বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপের মতো বিভাগে এই বিনিয়োগ বাজারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিকল্পের প্রতি আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে মিউচুয়াল ফান্ডের (Mutual Funds) সম্পদ এবং বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ রয়েছে। কারণ মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন বাজারের গতিবিধির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত এবং এখানে ঝুঁকির সম্ভাবনাও থাকে। তাই শুধুমাত্র সাম্প্রতিক প্রবাহ বা কোনও একটি ফান্ডের পারফরম্যান্স দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, বিনিয়োগের সময়সীমা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। জুলাইয়ের পরিসংখ্যান অবশ্য এটুকু স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের বিনিয়োগের মানচিত্রে মিউচুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।













